কক্সবাজার, রোববার, ৩ মার্চ ২০২৪

মার্চে সড়কে ঝরেছে ৪০২ প্রাণ

গেলো মার্চ মাসে সারাদেশে ৩ হাজার ৪০৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৮৯৪ জন।

সোমবার (৩ এপ্রিল) সেভ দ্য রোডের মহাসচিব শান্তা ফারজানা স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়৷

এতে বলা হয়, সেভ দ্য রোডের প্রতিবেদন ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের সক্রিয়তায় চালক-পথচারী এবং যাত্রী সাধারণের মধ্যে সচেতনতা-সাবধানতার কারণে পথে মৃত্যু কমলেও বেড়েছে দুর্ঘটনা ও আহতের সংখ্যা।

সেভ দ্য রোড জানায়, বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে মার্চে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কিছুটা কমলেও ৯৮৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯০৬ জন, নিহত হয়েছেন ৮৮ জন। এসময় ৬৪৫টি ট্রাক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭১৮ এবং নিহত হয়েছেন ৮৭ জন। নির্ধারিত গতিসীমা না মেনে, বিশ্রাম না নিয়ে টানা ১২ থেকে ২০ ঘণ্টা যানবাহন চালানোসহ বিভিন্ন নিয়ম না মানায় ৮৮৯টি বাস দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯৩৭ জন এবং নিহত হয়েছেন ১৩৭ জন।

দায়িত্বে অবহেলা, স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের দুর্নীতিসহ বিভিন্নভাবে সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ বাহন নসিমন-করিমন এবং অন্যান্য তিন চাকার বিভিন্ন ধরনের বাহনে ৮৮৮টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯৩৩ এবং নিহত হয়েছেন ৯০ জন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত নৌপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬৭টি। এতে ১৭ জন নিহত ও ৯৭ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬৯টি। এতে ১৮ জন নিহত ও ৭২ আহত হয়েছেন। এসময়ে আকাশপথে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটলেও বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ যাত্রীদের একটি বড় অংশ শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সড়কপথ, নৌপথ ও রেলপথের দুর্ঘটনামুক্ত পথ চলাচলের অধিকার রক্ষায় মালিক-শ্রমিক-প্রশাসনিক এবং সাধারণ জনগণের সমন্বয়ের কোনও বিকল্প নেই বলে সেভ দ্য রোড মনে করে।

পাশাপাশি সেভ দ্য রোড-এর পক্ষ থেকে বরাবরের মতো ৭ দফা দাবি জানিয়ে আসছে।

 

দাবিগুলো হলো:- ১. মিরেরসরাই ট্রাজেডিতে নিহতদের স্মরণে ১১ জুলাইকে ‘দুর্ঘটনামুক্ত পথ দিবস’ ঘোষণা করতে হবে। ২. ফুটপাত দখলমুক্ত করে যাত্রীদের চলাচলের সুবিধা দিতে হবে। ৩. সড়ক পথে ধর্ষণ-হয়রানি রোধে ফিটনেস বিহীন বাহন নিষিদ্ধ এবং কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যতীত চালক-সহযোগী নিয়োগ ও হেলপার দ্বারা পরিবহন চালানো বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ৪. স্থল-নৌ-রেল ও আকাশ পথ দুর্ঘটনায় নিহতদের কমপক্ষে ১০ লাখ ও আহতদের ৩ লাখ টাকা ক্ষতি পূরণ সরকারিভাবে দিতে হবে। ৫. ‘ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স রুল’ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সত্যিকারের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে ‘ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন’ বাস্তবায়ন করতে হবে। ৬. পথ দুর্ঘটনার তদন্ত ও সাজা ত্বরান্বিতকরণের মধ্য দিয়ে সতর্কতা তৈরি করতে হবে এবং ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠনের পূর্ব পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ সহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা-সহমর্মিতা-সচেতনতার পাশাপাশি সকল পথের চালক-শ্রমিক ও যাত্রীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সকল পরিবহন চালকের লাইসেন্স থাকতে হবে। ৭. ইউলুপ বৃদ্ধি, পথ-সেতু সহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যাতে ভাঙা পথ, ভাঙা সেতু আর ভাঙা কালভার্টের কারণে আর কোন প্রাণ দিতে না হয়।

পাঠকের মতামত: