কক্সবাজার, শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১

মুসলিমদের করবস্থান সঙ্কট, ঘরেই পঁচছে লাশ

ইতালিতে করোনামহামারিতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট সইতে হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনকে। কেননা দেশটিতে যথেষ্ট কবরস্থান নাই। তাই করোনাভাইরাসে মৃতদের লাশ দাফনের জন্য মাইলের পর মাইল ছুটে বেড়াতে হয়েছে মুসলিম পরিবারগুলোকে। অনেক লাশ ১০-১৫ দিন ধরে ঘরের মধ্যেই রাখতে হয়েছে।

মরক্কোর মুসলিম মুস্তফা মলি বসেছিলেন মিলানের অদূরে ব্রুজ্জানোর রোমান ক্যথলিকদের সমাধিস্থলে। তার স্ত্রী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার নামটি লেখা রয়েছে ছোট একটা সাদা নুড়ি পাথরের ওপর। নিরূপায় মোস্তফা ভাগ্যকেই দুষছেন। তিনি বলেন, ‘আমার কি করা উচিত। আমি হাসপাতালকে দোষ দেই না। আমি ইতালির সরকারকে দোষ দেই না। আমি এটা করতে পারবো না। কারণ তারা আমার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।’

এখানে করোনাভাইরাসের আগে যারা মারা গিয়েছেন তাদের করবরগুলোতেই কেবলমাত্র সিস্টেমের তৈরি স্থায়ী ফলক আছে। কিন্তু করোনায় যারা মারা গেছেন তাদের কবরে ওই রকম কোনও চিহ্ন বা স্মরক নেই। অনেক ইতালিয় মুসলিম লাশ দাফনের জন্য ৩০ মাইল দূরে ছুটে যেতে বাধ্য হয়েছেন। আবার কেউ কেউ দিনের পর দিন মর্গে এমনকি ঘরের মধ্যেই লাশ ফেলে রাখতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ মুসলিমদের লাশ দাফনের জন্য যথেষ্ট গোরস্থান নেই।

দেশটিতে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করার পর দেশটিতে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে আগের মতো প্রবাসীদের মরদেহ আর আগের মতো তাদের নিজ দেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

মুস্তফা মলি বলেন, ‘মহামারির কারণে আমারা আগের মতো স্বজনদের লাশ দেশে পাঠাতে পারছি না। মুসলিম হিসাবে আমাদের উচিত তাৎক্ষণিকভাবে মুর্দার দাফন শেষ করা। আমরা নানা সমস্যার মোকাবেলা করছি। অনেক লাশ ১০=২৫ দিন দরে বাসায় পড়েছিল। তাই আমরা মহামারির কষ্ট হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি।’

‘এটা আরও বেড়ে গিয়েছে যখন অনেক পরিবার তাদের মৃত স্বজনদের দাফন করার জন্য জায়গা পাননি। কারণ শহরের গোস্থানগুলোতে মুসলিমদের জন্য কোনও জায়গা বরাদ্দ ছিল না।’

ইতালির ইউনিয়ন অফ ইসলামিক কমিউনিটির হিসাবে অনুযায়ী দেশটিতে মুসলিমদের জন্য মাত্রও ৭৬টি কবরস্থান রয়েছে।

ইতালিতে করোনায় ৩৪ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা উত্তরাঞ্চলের। তবে এর মধ্যে কত সংখ্যক মুসলিম বা প্রবাসী মারা গিয়েছেন তার সরকারি কোনও হিসাব নাই।

ইতালিতে প্রায় ২০ লাখ ৬০ হাজার মুসলিমের বাস। ইতালির উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৫৬ শতাংশ মানুষই প্রবাসী। প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি ছাড়াও সেখানে পাকিস্তান, মরক্কো, তিউনেশিয়া ও মিশরের অনেক প্রবাসী রয়েছেন।

করোনাভাইরাসে দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩৪ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছে, তবে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা উত্তরাঞ্চলে। উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৫৬ শতাংশ মানুষই প্রবাসী। প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি ছাড়াও সেখানে পাকিস্তান, মরক্কো, তিউনেশিয়া ও মিশরের অনেক প্রবাসী রয়েছেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা

পাঠকের মতামত: