কক্সবাজার, শুক্রবার, ২০ নভেম্বর ২০২০

মেজর সিনহা হত্যা : স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী শেষে কারাগারে নন্দদুলাল

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ খান হত্যা মামলায় বরখাস্ত এএসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী শেষে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ৪ ঘণ্টা জবানবন্দী গ্রহণ শেষে বিকেল সোয়া তিনটার দিকে কারাভ্যানে করে তাকে জেলা কারাগারে নেয়া হয়েছে। মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে তৃতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ড শেষ হয় তার। সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা দিকে নন্দদুলাল রক্ষিতকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে তোলা হয়।

গত শুক্রবার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই লিয়াকত আলী, এএসআই নন্দদুলাল রক্ষিতের তৃতীয়বারের মতো তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল আদালত।
১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়ার জন্য বরখাস্ত এএসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে সোমবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে আনা হয়।

গত ২৬ আগস্ট আলোচিত এই মামলায় ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন অন্যতম আসামি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্য কনস্টেবল আব্দুল্লাহ। নন্দদুলাল রক্ষিতসহ মামলাটিতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া আসামির সংখ্যা দাঁড়াবে তিনে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। তিনি মারিশবুনিয়ার একটি পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্টে ফিরছিলেন। এ সময় তার সাথে থাকা ক্যামেরাম্যান সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে আটক করে পুলিশ। পরে নীলিমা রিসোর্ট থেকে শিপ্রা দেবনাথকে আটক করা হয়। দুজনই এখন জামিনে মুক্ত।

এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মো: রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। এতে নয়জনকে আসামি করা হয়।

এরপর সাত অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়। মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ১৩ জন।
সিনহা হত্যার পর পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্ত সংস্থা র‌্যাব। এছাড়া হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরো তিন এপিবিএন সদস্যকে গ্রেফতার করে এলিট ফোর্সটি।

একই ঘটনায় টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। সাক্ষী অপহরণের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় পরে আরেকটি মামলা হয়। সিনহা হত্যার ঘটনার ১ মাস পার হলো। এ পর্যন্ত মোট ৫টি মামলা হয়েছে।

পাঠকের মতামত: