কক্সবাজার, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০

যারা ফেল করতো তারাও পাস, পাবে সনদপত্র

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হচ্ছে না। বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতিতে এইচএসসির গণ্ডি উত্তীর্ণ হবে প্রায় ১৩ লাখ ৬৫ হাজার শিক্ষার্থী।

জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ওপর মূল্যায়ন করে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেয়া হবে। ফলে, যেসব শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিলে ফের করতো, তারাও চলতি বছর পাসের সনদপত্র পাবে।

শুধু তাই নয়, গেলো বছর পাঁচ বছরে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পাস করতে পারেনি। তবে, এবার সরকারের নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শতভাগ পরীক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী, যাদের পরীক্ষায় ফেল করার সম্ভাবনা ছিল, তারাও এখন সার্টিফিকেট পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।’

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন কমিটির সদস্য সিদ্দিকুর বলেন, ‘এটা কখনোই গ্রহণযোগ্য না। তারা যোগ্যতা অর্জন না করেই সার্টিফিকেট পাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রেও তারা কিছুটা সুযোগ-সুবিধা পাবে।’

তিনি উল্লেখ করেন, অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা এসএসসি পরীক্ষায় কম জিপিএ পেয়েছে, কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কারণে তারাও বঞ্চিত হবে।

সরকার যদি কাউকে অনাকাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা দিতে না চায়, তবে পরীক্ষা নেয়ার কোনো বিকল্প নেই। আমি সরকারের কাছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সিদ্ধান্তগুলো পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ করব।

বুধবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এইচএসসি পরীক্ষার মূল্যায়ন করা হবে।

ডিসেম্বরের মধ্যে তারা এইচএসসির চূড়ান্ত মূল্যায়ন ঘোষণা করতে চান। যাতে জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

পাঠকের মতামত: