কক্সবাজার, রোববার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

যেভাবে ডিভোর্স পর্যন্ত গড়াল রাজ ও পরীমণির সংসার

পরীমণি ও শরিফুল রাজ দম্পতির সংসারে অনেকদিন ধরেই চলছিল ঝামেলা। এবার সব জল্পনা শেষে রাজকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়েছেন পরীমণি। জানা গেছে, চারটি কারণ দেখিয়ে রাজকে ডিভোর্স দিয়েছেন পরীমণি।

 

সেখানে তিনি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, ১. মনের অমিল হওয়া, ২. বনিবনা না হওয়া, ৩. খোঁজ না নেয়া এবং ৪. মানসিক অশান্তি জন্য ১৮ নম্বর কলাম অনুযায়ী বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করতে চান।

এই বছরের ২০ মে পরীমণির বাসা থেকে নিজের জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে যান রাজ। তাদের আলাদা থাকার দিন তখন থেকেই শুরু। এরপর ২৯ মে মধ্যরাতে রাজের ফেসবুক থেকে তিশা, তুষি ও সুনেরাহর সঙ্গে কিছু ছবি-ভিডিও ফাঁস হয়।

সম্পর্কের তীব্র টানাপোড়েন তখন থেকেই শুরু হয়। মাঝে উভয়কে একসঙ্গে দেখা গেলেও সেটা কয়েক মিনিটের জন্য কেবল! তাদের দূরত্ব বাড়তে বাড়তে আজ ডিভোর্স পর্যন্ত গড়াল!

গত ১৮ সেপ্টেম্বর পরীমণি রাজকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছেন বলে নায়িকার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। হয়তো তা কার্যকরও হয়ে যাবে শিগগিরই।

‘দামাল’ সিনেমা মুক্তির সময় মিমের সঙ্গে রাজের সম্পর্ক জড়িয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন পরীমণি। তখন থেকে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে অবনতির শুরু। তা চলতে চলতে তীব্র থেকে তীব্রতর হয় চলতি বছরের মে মাসে। এর মাস খানেক পরই পরী জানিয়েছিলেন রাজের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

পরীর ভাষ্য ছিল, ‘আমার সঙ্গে তার এখন শারীরিক, মানসিক কোনো অ্যাটাচমেন্টই নাই। আমি যখন হাসপাতালে, তখনই বাসায় রাজ তার জিনিসপত্র গুছিয়ে রেখেছিল। আগেই প্রস্তুত ছিল বাসা থেকে বেরিয়ে যাবে। সম্পর্ক রাখবে না। এভাবে তো আর সংসার, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।’

সে সময় পরীকে প্রশ্ন করা হয় তাহলে কি বিচ্ছেদের দিকে যাচ্ছে ? পরীর উত্তর ছিল, ‘ও তো আমাকে ছেড়ে চলেই গেছে, বিচ্ছেদ তো হয়েই গেছে। আমি আর কল্পনাতেও ভাবতে চাই না শরিফুল রাজ আমার জামাই। একটা মানুষ চলে গেলে তো আর ধরে রাখা যায় না। রাজ এখন বলে কী, আমাদের বিয়ের কাবিননামা নাকি ভুল। আমাদের নাকি ঠিকঠাক বিয়েই হয়নি। যে এভাবে বলতে পারে, সে ভয়ংকর মানুষ। তার সঙ্গে থাকা যাবে না। আমি চাই সে আমাকে তালাক দিয়ে দিক। আমি ওর প্রাক্তন, এটাই শুনতে আমার ভালো লাগবে। আমি রাজের বউ, এটি আর শুনতে চাই না।’

বাসা থেকে রাজ চলে যাওয়ার পর পরীকে জানতে চাওয়া হয়েছিল সন্তানের দিকে তাকিয়ে যদি রাজ পুনরায় ফিরে আসে, তাহলে তাকে গ্রহণ করবেন না? পরী সাফ জানিয়ে ছিলেন, ‘যে স্ত্রী ও বাচ্চার মায়ের চরিত্র নিয়ে নেতিবাচক কথা বলতে পারে তার আর ফিরে আসার সুযোগ নেই।’

তবে রাজ ফিরে এসেছিলেন। সেটা সন্তানের টানেই। সে ফিরে আসাটা বেশি সময়ের জন্য ছিল না। এবার তো একেবারেই আলাদা হচ্ছেন তারা!

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২১ জানুয়ারি হলুদ অনুষ্ঠানের পর ২২ জানুয়ারি রাতে জমকালো আয়োজনে শরিফুল রাজ-পরীমণির বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অতিথির তালিকায় ছিলেন তিন নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম, চয়নিকা চৌধুরী ও রেদওয়ান রনি। সঙ্গে দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজনরা।

পাঠকের মতামত: