কক্সবাজার, রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০

রামু থানায় মামলা করতে গিয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে এলেন শিপ্রা

থানা বা ট্রাইব্যুনাল নয়, মামলা নিয়ে আপাতত উচ্চ আদালতের অপেক্ষায় রয়েছেন নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের সঙ্গী শিপ্রা দেবনাথ। সে কারণে আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে রামু থানায় মামলা করতে গিয়েও মাঝপথ থেকে ফিরে এসেছেন শিপ্রা।

বুধবার দুপুরে শিপ্রার আইনজীবী মাহবুবুল আলম টিপু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায়ও মামলা করতে গিয়েছিলেন শিপ্রা।

শিপ্রার আইনজীবী মাহবুবুল আলম টিপু জানান, ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগে দুই এসপিসহ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলার চেষ্টা করছেন শিপ্রা দেবনাথ। তাই মঙ্গলবার রাতে মামলা করতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় গেলেও থানা কর্তৃপক্ষ মামলা নেয়নি। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খায়রুজ্জামান রামু থানা বা ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে মামলাটি ফিরিয়ে দেন।

সেই মতে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার শহর থেকে রামু থানার উদ্দেশে রওনা হন তারা। কিন্তু ঢাকা থেকে জানানো হয় উচ্চ আদালত শিপ্রার পক্ষে দায়ের করা রিটের আদেশ দিতে পারেন আগামীকাল। সেই আদেশ কী আসে তা জানার অপেক্ষায় মামলার নথি রামু থানায় জমা না করে আবার কক্সবাজার ফিরে এসেছি আমরা।

মাহাবুবুল আলম টিপু জানান, যে ডিভাইসগুলো পুলিশ জব্দ করেছে, তবে মামলার জব্দ তালিকায় দেখানো হয়নি সেখান থেকেই শিপ্রার ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তার ব্যক্তিগত মুহুর্তের ছবি সেসব ডিভাইসেই ছিলো। অন্য কোথাও ছিলো না। আর রামু থানায় থাকা ডিভাইস থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার নিয়ে রামু থানার ওসির বক্তব্য অসত্য বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এর আগে, আটকের সময় জব্দ হওয়া ডিভাইস থেকে শিপ্রার ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে রামু থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, জব্দ করা ডিভাইস থেকে কারো ব্যক্তিগত ছবি বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে শিপ্রা দেবনাথের ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেয়া দুই পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানিতে হাইকোর্ট মন্তব্য করেছেন, কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়, অপরাধীকে শাস্তি পেতেই হবে। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে, বিচারপতি জেবিএম হাসান ও মোহাম্মদ খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে হয়েছে রিটের শুনানি। কাল আদেশ দেবে আদালত। এসময় আইনজীবীকে শিপ্রার অবস্থা জানানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

এর আগে, ১৬ই আগস্ট হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক জনস্বার্থে রিট করেন। রিট আবেদনে শিপ্রাকে নিয়ে ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট করায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্তেরও নির্দেশনা চাওয়া হয়। পাশাপাশি তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও আর্জি জানানো হয়।

পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা হলেন: সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের এসপি মিজানুর রহমান শেলি।

উল্লেখ্য, পুলিশের মামলায় জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিপ্রা দেবনাথের ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে শিপ্রা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাকে হেনস্তায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করারও ঘোষণা দেন তিনি।

পাঠকের মতামত: