কক্সবাজার, বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২০

রোহিঙ্গাদের কারণে গোটা অঞ্চলে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে

রোহিঙ্গাদের কারণে গোটা অঞ্চলে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

তিনি বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা অনেকদিন ধরে বলে আসছি। এটি বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং পুরো অঞ্চলের জন্য খারাপ হবে। যারা সন্ত্রাস করে তাদের কোনো সীমান্ত নেই, তাদের কোনো ধর্ম নাই। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৭ জন নিহত হয়েছে, এটি দুঃখজনক। আমরা দুটি প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু এনজিও ও সাহায্যকারী সংস্থাগুলো তা পছন্দ করেনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী।

ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, ‘যারা মিয়ানমারে বিনিয়োগ করছে যেমন চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত তাদের সবাইকে বলি আপনারা বিনিয়োগ করছেন এটি ভালো, কিন্তু ওখানে যদি অনিশ্চয়তা দেখা দেয় তবে আশাপ্রদ লাভ পাবেন না। শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আমাদের সাহায্য করুন।

তিনি বলেন, ‘আমরা দুটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু অনেকেই মানছেন না। একটি হচ্ছে কাঁটাতারের বেড়া এবং অপরটি হচ্ছে ৪জি কমানো। আমরা ৪জি’র বিষয়ে আপত্তি করেছিলাম, কারণ আমাদের কাছে তথ্য ছিল যে এই ৪জি দিয়ে মেয়েদের ছবি পাঠিয়ে বিক্রি করা হয়, মানবপাচার হয়, মাদক চোরাচালান বাড়ে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে এটি নাম্বার ওয়ান ইস্যু হয়ে গেল। কেন ৪জি হচ্ছে না? আমাদের একটাই ইস্যু, আর তা হলো তাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন।

ইউএনএইচসিআরসহ অনেকে কাঁটাতারের বেড়ার বিরোধীতা করেছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের বক্তব্য ছিল বেড়া দিলে নাকি এটা জেলের মতো হয়ে যাবে! কিন্তু এটা তো অন্যান্য দেশেও আছে। যুক্তরাষ্ট্রে তো রীতিমতো দ্বীপে নিয়ে নেয়া হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বেড়া দিতে আমরা কিছু পিলার স্থাপন করেছি, পুরোপুরি হয়নি। আমরা এটি করতে চাই।

ভাষানচরে স্থানান্তর প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, `আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তাদের ওখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ২৩ হাজার পরিবারকে আমরা ভাষানচরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যারা পছন্দ করেনি, কারণ তাদের জন্য সেখানে বিশেষ ব্যবস্থা যেমন ফাইভ স্টার হোটেল নাই। আমরা তাদের সেখানে নিতে চাই, চেষ্টা করছি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, `অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি, অপেক্ষা করুন, দেখেন কি হয়।

সম্প্রতি কুয়েত ফেরত পররাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা নিয়ে কুয়েত প্রথম থেকে ঢাকার পাশে আছে। তারা যখন নিরাপত্তা পরিষদে ছিল, তখন একটি প্রতিনিধিদল আসে এবং একটি রিপোর্ট দেয়। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আছে এবং এ বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

মানবপাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দেশটিতে আটক সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের বিচার হচ্ছে স্থানীয় অপরাধী (লোকাল ক্রিমিনাল) হিসেবে। তার বিচার প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা সরকারের কোনো অস্বস্তি নেই দাবি করে ড. মোমেন বলেন, ‘এমপি পাপুল কূটনীতিক হিসেবে যান নাই। তিনি বা তার পরিবার কারও কূটনৈতিক পাসপোর্ট নেই। লোকাল ক্রিমিনাল হিসেবে তারা তাকে ধরেছে এবং সেভাবেই তার বিচার হচ্ছে। সফরে তার বিষয়ে কুয়েতের কারো সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

পাঠকের মতামত: