কক্সবাজার, শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০

রোহিঙ্গাদের উপর ভয়াবহ নির্যাতনের সাক্ষী দিলেন আরও দুই মিয়ানমার সেনা

মিয়ানমারের দুই সেনা সদস্যের এই স্বীকারোক্তি নিয়ে তোলপাড় চলছে বিশ্বজুড়েই। সেনাবাহিনীর গণহত্যার জবানবন্দি দিয়ে, এ সপ্তাহে, অনেকটা চমক হয়েই দৃশ্যপটে আসেন, তারা দুজন। তুলে ধরেন, রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞের বিস্তারিত বিবরণ।

এরপরই রোহিঙ্গা গণহত্যায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততার স্বীকারোক্তি দিয়েছে আরও দুই সেনা সদস্য। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দুই সৈনিকের আলোচিত জবানবন্দি প্রকাশের পর এসেছে সেনাদের বক্তব্যের নতুন ভিডিও ফুটেজ। যাতে একসাথে চার সেনা সদস্যকে রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা দিতে দেখা যায়। জানা গেছে, নতুন দুই সেনাও জবানবন্দি দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে।

রাখাইনে মোতায়েন থাকা আরও অন্তত দুই সৈনিক মুখ খুলেছেন, সেদেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। এরইমধ্যে আলোচনায় আসা, মিউ উইন ও জো নাইং এর সাথে একসাথে, ভিডিওতে স্বীকারোক্তি দিতে দেখা যায় তাদের।

মিয়ানমানর সেনা সদস্য চ্যাও মিও অং বলেন, ঔপনিবেশিক বাহিনীর মতো বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠিকে নিপীড়ন করছে সেনাবাহিনী। বাহিনীর মধ্যেও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হয়। অনেক কর্মকর্তাই মাদকাসক্ত। মাদকের পৃষ্ঠপোষকতাও করে তারা।

মিয়ানমানর সেনা সদস্য পার তাও নি বলেন, অফিসাররা সবসময় বলতো, ভিন্ন নৃতাত্বিক গোষ্ঠির সবাই দাস। সন্ত্রাসী বাহিনীর মতো অস্ত্রের অপব্যবহার করে বেসামরিক জনগণের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে সেনাবাহিনী।

গণমাধ্যম বলছে, এ চার সেনার মধ্যে দুজন এখন আছেন, হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জিম্মায়। বাকি দুজনও আন্তর্জাতিক আদালতে জবানবন্দি দেবেন বলে জানা গেছে। গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসা, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হতে পারেন এ সেনারা, এমন মত মানবাধিকার কর্মীদের।

ফোর্টিফাই রাইটস-এর সিইও ম্যাথিও স্মিথ বলেন, এই প্রথম মিয়ানমার আর্মির ভেতরকার কারো বয়ান আমরা পাচ্ছি। সেনা সদস্যরাই গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তাদের কথায় স্পষ্ট, রোহিঙ্গাদের নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়েই অভিযানে নেমেছিলো মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। বিচারের প্রক্রিয়ায় এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্ত।

এ চার সেনা সদস্যের বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে, রাখাইনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠি আরাকান আর্মি। দীর্ঘদিন ধরেই, রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগের কারণ হিসেবে রাখাইনদের সাথে বিভেদের অজুহাত দিয়ে আসছে মিয়ানমার। পরিহাস হলো, ভিন্ন নৃতত্ত্বের সেই গোষ্ঠির সৌজন্যেই, কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছে, রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা।

পাঠকের মতামত: