কক্সবাজার, শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০

‘রোহিঙ্গাদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ ছিল’, আইসিসিতে ২ সেনার স্বীকারোক্তি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর কীভাবে বর্বর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মিয়ানমারেরই দুই সেনা সদস্য। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) এই জবানবন্দি দিয়েছেন তাঁরা।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফরটিফাই রাইটসের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, মিয়ানমারের সেনা সদস্য দাবি করা দুই সৈনিক হলেন– মিও উইন তুন (৩৩) ও জ নায়েং তুন (৩০)। তাঁরা গত মাসে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে হেগে চলে যান।

দুই সেনা সদস্যের ভাষায়, ২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের সৈনিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ‘যাকে দেখবে তাকে গুলি করবে’। এ সময় তাঁরা কীভাবে একে একে গ্রামের পর গ্রাম ধ্বংস, গণকবর, হত্যা ও ধর্ষণ করেছেন তার বর্ণনা দিয়েছেন।

মিও উইন তুন জানিয়েছেন, তিনি কর্মকর্তাদের আনুগত্য করেছেন। ৩০ জন রোহিঙ্গা মুসলমানকে হত্যায় অংশ নিয়েছিলেন। ওই সময় সেল টাওয়ার ও সামরিক ঘাঁটির কাছে একটি গণকবরও দিয়েছেন।

এদিকে জ নায়েং তুন বলেছেন, ‘আমরা প্রায় ২০টি গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি। পরে শিশু ও বয়স্কদের মৃতদেহ একটি গণকবরে ফেলেছি।’

এই দুজন হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে এসব কথা স্বীকার করেছেন। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুধু এই দুজনই কমপক্ষে ১৫০ জন রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া কয়েক ডজন গ্রাম ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত।

ফরটিফাই রাইটসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই স্বীকারোক্তির ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ওই দুই সৈনিক আদালতের কাছে নিজেদের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে ভবিষ্যতে মামলায় কাজ করবে। আইসিসির বিভিন্ন ধরনের সাক্ষী সুরক্ষার (উইটনেস প্রটেকশন) নিয়ম আছে এবং এর অধীনে এ ধরনের সাক্ষীদের সুরক্ষা দেওয়া হয়।

ওই সৈনিকরা ১৯ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন যারা সরাসরি এ ধরনের নৃশংসতা করেছে। এ ছাড়া ছয়জন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এসবের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, আইসিসিতে রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ক অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।

পাঠকের মতামত: