কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০২০

‘রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের অভিযোগ অবাস্তব এবং মিথ্যাচারের শামিল’

ভাসানচরে প্রতিবাদকারী রোহিঙ্গাদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে নৌবাহিনীর একদল সদস্যের বিরুদ্ধে৷ তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)-এর এ অভিযোগকে ‘অবাস্তব’ বলেছে আইএসপিআর৷

ভাসানচরে রাখা রোহিঙ্গারা সেখান থেকে কক্সবাজারে ফেরার জন্য অনশন করলে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ৷ ৩০৬ জন রোহিঙ্গা এখন সেখানে রয়েছেন৷ গত মে মাসে ক্যাম্পের বাইরে থেকে দুই দফায় তাদের সেখানে নেয়া হয়৷ নৌকায় করে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তাদের আটক করা হয়েছিল৷

এইচআরডাব্লিউ’র দক্ষিণ এশীয় পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস এক বিবৃতিতে দাবি করেন, অনশন করা আট শরণার্থীর সাক্ষাৎকার রয়েছে তাদের কাছে৷ সেখানে তারা মারপিট ও নির্যাতনের কথা বলেছেন৷ তাদের একজন বলেছেন, ‘‘নৌবাহিনীর সদস্যরা আমাদের পেটাতে গাছের ডাল ও কালো রাবারের লাঠি ব্যবহার করেছিল৷ প্রতিবাদকারী নারী-পুরুষ, এমনকি তাদের সাথে থাকা শিশুদেরও মারধর করেছে তারা৷’’ গত ২১ সেপ্টেম্বর এই মারধর করা হয় বলে তারা অভিযোগ করেন৷

হাতে পাওয়া ছবিতে আঘাত ও ক্ষতের চিহ্ন দেখেছেন বলেও দাবি করেন ব্র্যাড অ্যাডামস৷

ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের যে ভিডিও-বক্তব্য এইচআরডাব্লিউ পেয়েছে তাতে দেখা যায় অনশনকারী রোহিঙ্গারা বলছেন, ‘‘আমরা খাবার চাই না, আমরা কক্সবাজারে আমাদের পরিবারে কাছে ফিরে যেতে চাই৷ এখানে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো৷

ভাসানচরে অবস্থানরত কয়েকজন রোহিঙ্গার সাথে কথা বলার জন্য ফোন করে তাদের ফোন শুক্রবার বন্ধ পাওয়া যায়৷ তবে কয়েকদিন আগেও ফোনে তাদের পাওয়া গেছে৷ দুই-একদিন আগেও তারা টেকনাফ ও কক্সবাজারে সাংবাদিকদের সাথে ফোনে কথা বলেছেন৷ সেই সাংবাদিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, কক্সবাজারে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফেরার দাবিতে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে টানা তিন দিন তারা না খেয়ে থাকে৷ পরে তারা সবাই ভবন থেকে বেরিয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করে৷

এর আগে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পের ৪০ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরের সার্বিক অবস্থা দেখতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল৷ তাদের একজন মোহাম্মদ মোস্তফা শুক্রবার বলেন, ‘‘তখন সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সাথে আমাদের কথা হয়েছে৷ তারা তখন বলেছিল তারা ভাসানচরে থাকতে চান না৷ তাদের স্বজনরা ওখানে নেই বলে তারা থাকতে চান না৷ এমনো রয়েছে যে একটি পরিবারের কিছু সদস্য ভাসানচরে, আবার কিছু সদস্য কক্সবারের ক্যাম্পে আছেন৷

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের অভিযোগের ব্যাপারে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর পরিচালক কর্ণেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ লিখিত ভাবে জানান, ‘‘বিষয়টি অবাস্তব, অসত্য, বিভ্রম জনক এবং মিথ্যাচারের শামিল৷ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা ভাসানচরে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের জনগণের স্বাচ্ছন্দ মূলক জীবনযাত্রা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি, অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাথে যৌথভাবে এইসকল বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছে৷

তবে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এইচআরডাব্লিউ’র বিবৃতির আগেই ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের কিছু ভিডিও-বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা দেখতে পেয়েছি৷ তাই এখন সরকারের উচিত তদন্ত করে দেখা যে ভাসানচরে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে কি ঘটে নাই৷ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া উচিত৷

তিনি আরো বলেন, ‘‘এটা করা না হলে যাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি, তাদেরই আমরা নির্যাত করেছি এমন তথ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে৷

এদিকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘‘আমরা নির্যাতনের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাইনি৷ এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি৷’’ তিনি বলেন, ‘‘রোহিঙ্গারা ভাসানচরে থাকতে চায় না, তাই তারা এ ধরনের কথা বলছে৷ডিডাবলিও

পাঠকের মতামত: