কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১

রোহিঙ্গাদের বিপক্ষে ভোট দিল দুই পরাশক্তি, ‘চুপ’ ভারত

জাতিসংঘে মিয়ানমারে জাতিগত হত্যার শিকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রশ্নে ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে চীন, রাশিয়াসহ ৯ দেশ। ভোটাভুটি থেকে বিরত ছিল ভারত, জাপানসহ ২৫ দেশ। এদিকে আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরের ৯ দেশ রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গ ছেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কর্ম অধিবেশনে প্রস্তাবটির পক্ষে ১৩০টি ভোট পড়েছে। আর বিপক্ষে পড়েছে ৯টি ভোট।
ক্যামেরুন, ইকুয়েটরিয়াল গিনি, নামিবিয়া, কেনিয়া, লেসেথো, মোজাম্বিক, তানজানিয়া, পালাউ ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জ—এ নয় দেশ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে।  ২০১৯ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘুবিষয়ক প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো অবস্থান না নিয়ে ভোটদানে বিরত থেকেছিল ওই ৯টি দেশ।

বৃহস্পতিবার ওই ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের বিপক্ষে অর্থাৎ মিয়ানমারের পক্ষে ভোট দিয়েছে মিয়ানমার, চীন, রাশিয়া, বেলারুশ, কম্বোডিয়া, লাওস, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও জিম্বাবুয়ে। আর ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও জাপানসহ ২৫টি দেশ প্রস্তাবের ভোটাভুটি থেকে নিজেদের বিরত রেখেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) গত বছরের নভেম্বের জাতিসংঘের তৃতীয় কমিটিতে প্রস্তাবটি আনে। ইইউ এবং ওআইসির আনা প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তদন্ত শুরুর প্রসঙ্গ এবং রোহিঙ্গা ও সংখ্যালঘু অন্য জনগোষ্ঠীদের মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অব্যাহতভাবে বঞ্চিত করার মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়া, প্রত্যাবাসনের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টিসহ আরও কিছু বিষয়ে মিয়ানমারকে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে।
এদিকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তৃতীয় কমিটির নেওয়া প্রস্তাব গত বৃহস্পতিবার রাতে ৭৫তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম প্লেনারি অধিবেশনে সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রস্তাবটি নিয়ে প্লেনারি অধিবেশনের সিদ্ধান্তের আগে মিয়ানমার এ নিয়ে ভোটাভুটির আহ্বান জানিয়েছিল।
জাতিসংঘে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি কিয়াউ মো তুন প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেছেন, রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির ফল ভালো হবে না।  এটি রাখাইন রাজ্যে সংকট সমাধানে কোনো কাজে আসবে না বলে দাবি করেছেন তিনি।
সূত্রঃ- মিয়ানমার আই টিভি

পাঠকের মতামত: