কক্সবাজার, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০

রোহিঙ্গাদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ কম কেন

এ মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থীশিবির কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়স্থল। এখানকার উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১১ লাখ। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাও এসব শিবির। আশঙ্কা ছিল, এখানে একবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

অবশ্য সেই আশঙ্কা ঠিক হয়নি। ২ অক্টোবর পর্যন্ত পরীক্ষার সংখ্যা বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংক্রমণ শনাক্তের হার ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। বাংলাদেশ বা শুধু কক্সবাজার জেলার সংক্রমণ পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে এ হার অনেক কম। যদিও গত এক মাসে রোহিঙ্গা শিবিরে নতুন রোগী বৃদ্ধির হার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তুলনায় অনেক বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক গত জুন মাসে রোহিঙ্গা শিবিরে সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়ে তিনটি মডেল প্রকাশ করেছিলেন। তাতে বলা হয়েছিল, এক বছরে কমপক্ষে ৪ লাখ ২১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা আক্রান্ত হতে পারেন। মারা যেতে পারেন ২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। সংক্রমণের প্রথম তিন মাসে অন্তত ২ হাজার ১২৭ জন আক্রান্ত হতে পারেন। গবেষক দল সংক্রমণ মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতি ও স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

রোহিঙ্গা শিবিরে সংক্রমণ পরিস্থিতি
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। ক্রমে তা মহামারি আকারে ছড়িয়েছে বিশ্বের প্রায় সব কটি দেশে। বাংলাদেশে প্রথম এ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের কথা সরকার জানায় ৮ মার্চ। প্রথম দিকে দেশের যেসব জেলায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছিল, তার একটি কক্সবাজার। ২৪ মার্চ কক্সবাজারে একজনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তিনি ১৩ মার্চ সৌদি আরব থেকে ফিরেছিলেন।

তবে কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা শিবিরে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয় আরও বেশ কিছুদিন পরে। দেশে প্রথম সংক্রমণ শনাক্তের প্রায় দুই মাস পর ৪ মে উখিয়ার লশ্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরে প্রথম একজন রোহিঙ্গার দেহে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোহিঙ্গাদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্র জানায়, ২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৩৩৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২৭১ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মারা গেছেন ৮ জন।

২ অক্টোবর পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় পরীক্ষার সংখ্যা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৪১ শতাংশ, যা সারা দেশে ১৮ শতাংশের বেশি।

সংক্রমণ মোকাবিলায় ব্যবস্থা
সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রম ও লোকজনের চলাফেরা সীমিত করা হয়।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর খাবার, পানি, ওষুধ, করোনা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা, হোম কোয়ারেন্টিন (সঙ্গনিরোধ) নিশ্চিত করছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়। এ কার্যালয়ের প্রধান স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী আবু তোহা এম আর এইচ ভুঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, করোনা নিয়ে রোহিঙ্গা শিবিরে আতঙ্ক ছিল। কিন্তু যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ, সচেতনতা তৈরি, এনজিও কার্যক্রমসহ লোকজনের চলাফেলা সীমিত করায় করোনার তেমন বিস্তার ঘটেনি।

আরআরআরসির কার্যালয় জানিয়েছে, ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আশ্রয়শিবিরের বিভিন্ন আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি আছেন ১৪২ জন শরণার্থী। ইতিমধ্যে ১০৯ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। এর আগে অন্তত ১৯ হাজার রোহিঙ্গাকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হয়। প্রতিটি পরিবারের মধ্যে মাথাপিছু দুটি করে ৬ লাখ মাস্ক বিরতণ করা হয়েছে। সঙ্গে হ্যান্ড স্যানিটাইজেশন, সাবানসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। সচেতনতামূলক প্রচারণাও চলছে।

তবু ঝুঁকি আছে
কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ অক্টোবর পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গাসহ মোট ৪ হাজার ৭৪৬ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ জেলায় সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন কক্সবাজার সদর পৌরসভায়, ২ হাজার ২৬৪ জন। রোহিঙ্গা শিবিরগুলো অবস্থিত কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায়। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে সদর পৌরসভার পর রয়েছে উখিয়া।
২ অক্টোবর পর্যন্ত উখিয়া উপজেলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে মোট ৪৮৩ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। আর উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে মোট আক্রান্ত হন ২০৭ জন।

অন্যদিকে টেকনাফে স্থানীয় মানুষের মধ্যে মোট ৩৬৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। বিপরীতে এ উপজেলায় আশ্রয়শিবিরগুলোতে ৬৪ জন রোহিঙ্গা আক্রান্ত হয়েছেন।

অবশ্য এক মাসের ব্যবধানে (৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর) স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চেয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে নতুন রোগী বাড়ার হার বেশি। উখিয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন রোগী বৃদ্ধির হার ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ, যা উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৪৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর সার্বিক অবস্থা রাজধানীর বস্তির সঙ্গে তুলনীয়। বস্তির একটি বড় অংশের মানুষ শ্বাসতন্ত্রের রোগ সৃষ্টি করে এমন ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত থাকেন। রেসপিরেটরি সিস্টেমে একটি ভাইরাস সক্রিয় থাকলে সেখানে নতুন আরেকটি ভাইরাস সক্রিয় হওয়া কঠিন। বস্তি বা রোহিঙ্গা শিবিরে সংক্রমণ তুলনামূলক কম হওয়ার এটি একটি কারণ হতে পারে। তবে এ নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন।
অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় টেকনাফেও একই চিত্র পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগী বৃদ্ধির হার ১০ শতাংশ, যা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৬৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

উখিয়ার বালুখালী শিবিরের মাঝি (রোহিঙ্গা নেতা) জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আশ্রয়শিবিরের জ্বর-কাশিতে ভোগা রোগী বাড়ছে। করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুও হচ্ছে। তা ছাড়া করোনা রোগের লক্ষণ সম্পর্কেও শরণার্থীদের অনেকের ধারণা নেই। অনেক পরিবার মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান পায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

এখনো সংক্রমণ কম হলেও যেকোনো সময় তা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন। এটি হলে বিপদ বাড়বে। উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, উখিয়া ও টেকনাফে লোকসংখ্যা ছয় লাখের বেশি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা। কড়াকড়ির মধ্যেও শিবির থেকে বের হয়ে কেনাকাটার জন্য রোহিঙ্গারা উখিয়া ও টেকনাফের হাটবাজার, দোকানপাটে চলে আসে। এতে দুই দিকেই করোনার সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা আছে।

নমুনা পরীক্ষা পরিস্থিতি
২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে প্রতি ১০ লাখ মানুষের বিপরীতে ১২ হাজার ৫০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে এ হার কিছুটা কম, ৯ হাজার ৮৫৭। তবে রোগী শনাক্তের বিপরীতে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বেশি আশ্রয়শিবিরগুলোতে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, একজন রোগী শনাক্তে যদি ১০ থেকে ৩০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়, তাহলে পরীক্ষা পর্যাপ্ত হচ্ছে বলে ধরা যায়। বাংলাদেশে একজন রোগী শনাক্তে গড়ে ৫ জনের সামান্য বেশি মানুষের পরীক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে একজন রোগী শনাক্তের বিপরীতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

আরআরআরসি কার্যালয়ের প্রধান স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী আবু তোহা এমআরএইচ ভুঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, আগে প্রতিদিন গড়ে ২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হতো। এখন দৈনিক ১৭০ থেকে ২০০ জনের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পুটিবুনিয়া অস্থায়ী রোহিঙ্গা শিবির। এসব শিবিরে গাদাগাদি করে থাকেন রোহিঙ্গারাটেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পুটিবুনিয়া অস্থায়ী রোহিঙ্গা শিবির। এসব শিবিরে গাদাগাদি করে থাকেন রোহিঙ্গারা

সংক্রমণ কম কেন
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয় প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা। এর আগেও বিভিন্ন সময় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এখানে আশ্রয় নিয়েছে। সব মিলিয়ে এখন কক্সবাজারে বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা আছে সাড়ে ১১ লাখ।
করোনাভাইরাসের যে চরিত্র এখন পর্যন্ত উন্মোচিত হয়েছে, তাতে যেখানে লোকসমাগম এবং জনঘনত্ব বেশি, সেখানে এ ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি। তবে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সংক্রমণের মাত্রা এখনো তীব্র হতে দেখা যায়নি। রাজধানীর বস্তিগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কিন্তু কেন? এটা নিয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু অনুমানের কথা জানাচ্ছেন।

চীনের উহানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের খবর আসার পর থেকেই রোহিঙ্গাদের বিষয়টি আমলে নেন জনস হপকিন্স সেন্টার ফর হিউম্যানিটারিয়ান হেলথের গবেষকেরা। সেখানে সংক্রমণ পরিস্থিতি কেমন আকার ধারণ করতে পারে, তা নিয়ে বিজ্ঞানী শন ট্রুলাভের নেতৃত্বে তিনটি মডেল দাঁড় করানো হয়েছিল। গত ২৩ সেপ্টেম্বর জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এ–সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে ট্রুলাভ বলেন, তাঁদের লক্ষ্য ছিল, রোহিঙ্গা শিবিরে করোনা হলে তা কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা ধারণা করা। এতে সংক্রমণ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দ্রুত সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে উৎসাহিত করা যাবে।

জনস হপকিন্স সেন্টার ফর হিউম্যানিটারিয়ান হেলথের পরিচালক এবং ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক পল স্পিগেল বলেন, ‘আমি অত্যন্ত খুশি যে আমাদের আশঙ্কার বাস্তব রূপ দেখতে হয়নি। তবে কেন এমন হলো সেটি বুঝতে আমি বেশি আগ্রহী। আমরা যে তেমন গবেষণা করিনি, বিষয়টা তা নয়। সমস্যা হলো তার জন্য পর্যাপ্ত তথ্য নেই।’ তিনি বলেন, এমন হতে পারে যে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের কোনো করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর কোনো প্রমাণ নেই।

রোহিঙ্গা শিবিরে সংক্রমণ ঝুঁকি গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তিনটি মডেল প্রকাশ।

তাতে বলা হয়, এক বছরে কমপক্ষে ৪ লাখ ২১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা আক্রান্ত হতে পারেন। মারা যেতে পারেন ২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা।

তবে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ২৭১ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত।

সংক্রমণের একেবারে শুরু থেকে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর দিকে বিশেষ নজর ও সতর্কতা ছিল। এটিই সংক্রমণ তুলনামূলক কম হওয়ার প্রধান কারণ বলে মনে করেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরামর্শক মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, এখানে আন্তর্জাতিক সহায়তা আছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ শুরু থেকেই বেশ সতর্ক ছিল এবং ব্যবস্থা নিয়েছে। এর আগে সেখানে কলেরা দেখা দিয়েছিল, সেটাও নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের একটা অভিজ্ঞতা তখনো হয়েছে।

দেশের বিশেষজ্ঞরাও রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সংক্রমণ পরিস্থিতি নজরে রাখছেন। তবে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংক্রমণের হার কম হওয়ার কারণ নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা হয়নি। ঢাকায় আইইডিসিআর এবং আইসিডিআরবি পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর বস্তিতে ৬ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত। আর বস্তির বাইরের বাসিন্দাদের মধ্যে ৯ শতাংশ আক্রান্ত। অর্থাৎ বস্তিতে অপেক্ষাকৃত কম মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে এরও কারণ জানা যায়নি।

ওই গবেষণার ওপর ভিত্তি করে নিজের একটি অনুমান (হাইপোথিসিস) দাঁড় করিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর সার্বিক অবস্থা রাজধানীর বস্তির সঙ্গে তুলনীয়। তিনি মনে করছেন, বস্তির একটি বড় অংশের মানুষ শ্বাসতন্ত্রের রোগ সৃষ্টি করে এমন ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত থাকেন। রেসপিরেটরি সিস্টেমে একটি ভাইরাস সক্রিয় থাকলে সেখানে নতুন আরেকটি ভাইরাস সক্রিয় হওয়া কঠিন। বস্তি বা রোহিঙ্গা শিবিরে সংক্রমণ তুলনামূলক কম হওয়ার একটি কারণ হতে পারে। তবে এটিই যে হচ্ছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। এ জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন। প্রথমআলো

পাঠকের মতামত: