কক্সবাজার, বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবু তৈয়ব বাহিনীর হামলায় আহত ৬: আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশংকা

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলো যেন পরিণত হয়েছে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানায়। আর এতে একটি চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রীতিমতো কয়েক দফা সংঘর্ষে অশান্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্প।

ক্যাম্পে বিভিন্ন অপকর্ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে অশান্ত করে তুলছে ক্যাম্পগুলো।

গত ২২ এপ্রিল (বুধবার) সন্ধ্যায় কুতুপালং মুছরা ক্যাম্পের চিহ্নিত সন্ত্রাসী মুন্না বাহিনীর সহযোগিতায় রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের বি ১২ ব্লকের বাসিন্দা নুর হোছনের (৪৫) উপর আকস্মিক উপর্যোপরী ছুরি চালায় পাশ্ববর্তী বি ১১ ব্লকের ইউনুস (প্রকাশ ট্রেইলার ইউনুস) ও তার ছেলে আবু তৈয়ব, মোঃ ইসমাইল, আবুল কালাম। এতে নুর হোসেনের চিৎকার শুনে তার ছেলে হাফেজ নুরুল আমিন ও মোহাম্মদ আমিনসহ ৪ ভাই ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপর ও হামলা চালিয়ে আহত করে। পরে নুর হোছনের স্ত্রী সাবেকুন্নাহার ঘটনাস্থলে গেলে তাকে ও গুরুতর আহত করে ফেলে চলে যায়। তাদের চিৎকার শুনে ব্লকের অন্যান্য বাসিন্দারা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসী বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে সটকে পরে। আহতদের উদ্ধার করে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে আসলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর স্ত্রী সাবেকুন্নাহার ও নুর হোসেনের অবস্থা অবনতি হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নুর হোসেনের পেটে ছুরির আঘাত বেশী হওয়ায় তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে স্ত্রী কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এবং ৪ ছেলে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।

এ ঘটনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে

জানা গেছে, ক্যাম্পে একটি বিচার শালিসে সন্ত্রাসী গ্রুপ ইউনুস (প্রকাশ ট্রেইলার ইউনুস) এর বিপক্ষে যাওয়ায় ঐ বিচারকে কেন্দ্র করে চিহ্নিত সন্ত্রাসী মুন্না গ্রুপের সহযোগিতায় ইউনুস ও তার ছেলেরা দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দ্বারা নুর হোসেন ও তার পরিবারের উপর হামলা চালায়।

এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার কয়েকজন রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা এ ঘটনাকে নিয়ে ভীত অবস্থায় আছে।

রোহিঙ্গা শিবিরে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ে স্থানীয়রা বলেন, এমন কোনো অপরাধ নেই যা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হচ্ছে না। তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ডের কাছে দিন দিন আমরা অসহায় হয়ে পড়ছি। আমরা আশঙ্কা করছি, ভবিষ্যতে স্থানীয়দেরই ভিটে-বাড়ি ছেড়ে পালাতে হবে।

তিনি বলেন, এখনো সময় আছে, রোহিঙ্গাদের অপরাধের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে না গেলে ভবিষ্যৎ পরিণতি হবে খুবই ভয়াবহ।

এদিকে আহতের পরিবার এ ঘটনার সুষ্টু বিচার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া নিতে ক্যাম্প ইনচার্জ ও আরআরআরসিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পাঠকের মতামত: