কক্সবাজার, বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০২০

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গ্রিসের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সে দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য গ্রিসের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। গ্রিসে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ সম্প্রতি গ্রিক প্রেসিডেন্সি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির প্রেসিডেন্ট কাতেরিনা সাকেল্লারোপুলোর কাছে পরিচয়পত্র পেশকালে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। দূতাবাসের পক্ষ থেকে আজ রোববার এ খবর জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।

ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ চার বছর ধরে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার যে অনন্য নিদর্শন স্থাপন করেছে, সে বিষয়টি গ্রিসের প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন রাষ্ট্রদূত আসুক আহমেদ।

এ সময় গ্রিক প্রেসিডেন্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রদূতকে অভিনন্দন জানান। অন্যদিকে, রাষ্ট্রদূত হিসেবে গ্রহণ করার জন্য গ্রিক প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান আসুদ আহমেদ। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন তিনি।

বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো জোরদার করার ক্ষেত্রে অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরেই যেসব দেশ প্রথমে স্বীকৃতি দিয়েছিল, গ্রিস তাদের মধ্যে অন্যতম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিশেষ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিভিন্ন আর্থসামাজিক সূচকে ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে গ্রিক প্রেসিডেন্টকে দুই দেশের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে জাহাজ নির্মাণ, পর্যটন, পোশাকশিল্প, জ্বালানিসহ অন্যান্য খাত সম্পর্কে অবহিত করেন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশ সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা ও বিনিয়োগকারীর জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা সম্পর্কেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত আসুক আহমেদ গত বছর গ্রিসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়টি উল্লেখ করে জানান, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে ফিরতি সফরে গ্রিসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যাতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো দুই ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নিজেরাই দেখতে পারে।

প্রেসিডেন্ট কাতেরিনা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এসব বিষয়ে তাঁর সার্বিক সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি গ্রিসে অবস্থানকালে রাষ্ট্রদূতের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়ে দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো বেগবান হবে।

গ্রিক প্রেসিডেন্ট দুদেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে তাঁর সন্তুষ্টি ব্যক্ত করেন এবং আগামী দিনগুলোতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক নিবিড়তর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি রাষ্ট্রদূত আসুক আহমেদের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে গ্রিক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির সচিব ও রাষ্ট্রাচার প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মতামত: