কক্সবাজার, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নর্ডিক রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা চেয়েছেন স্পিকার

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজ দেশে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনে নর্ডিক রাষ্ট্রসমূহের সহযোগিতা চেয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বাংলাদেশে নিযুক্ত নর্ডিক রাষ্ট্র তথা সুইডেনের রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্স বার্গ ফন লিন্ডে, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি স্ট্রাপ পিটারসেন ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন রিকটার ভেন্ডসেন বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) স্পিকারের সঙ্গে সংসদ ভবনের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে তিনি এই সহযোগিতা চান।

সাক্ষাৎকালে তারা নর্ডিক রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের সুদীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পদ্মা সেতুর সফল বাস্তবায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ, নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনজীবন সুরক্ষিত করেছে সরকার।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার রক্ষার্থে তাদের নিজ দেশে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনে নর্ডিক রাষ্ট্রসমূহের সহযোগিতা কামনা করেন স্পিকার।

রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্স বার্গ ফন লিন্ডে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দৃশ্যমান। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

এ সময়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি স্ট্রাপ পিটারসেন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে নর্ডিক রাষ্ট্রসমূহ আগ্রহী। জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য বৈশ্বিক বিষয়ে নর্ডিক রাষ্ট্রসমূহ বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

এ সময় তিনি বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের বন্ধুত্বের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে উপহারস্বরূপ একটি স্মারক গ্রন্থ স্পিকারকে দেন।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন রিকটার ভেন্ডসেন বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে নরওয়ে আন্তরিক। পরিবেশবান্ধব উপায়ে সিপ-রিসাইক্লিং শিল্পের প্রসারে সহায়তা দিতে নরওয়ে আগ্রহী।

রাষ্ট্রদূতরা জানান, ১৯৬২ সালের ২৩ মার্চ ঐতিহাসিক হেলসিংকি চুক্তি সই হয়। দিনটিকে নর্ডিক রাষ্ট্রসমূহ ‘নর্ডিক দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকেন।

এ সময় তারা স্পিকারকে আগামী ২৩ মার্চ ‘নর্ডিক দিবস’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানান।

পাঠকের মতামত: