কক্সবাজার, শুক্রবার, ২০ নভেম্বর ২০২০

রোহিঙ্গা ভোটার অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে কাজ করছে বিশেষ কমিটি

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে বিশেষ কমিটি কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় পত্র নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: সাইদুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্তি রোধে গৃহীত পদক্ষেপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক তথ্যসহ আলাদা রোহিঙ্গা ডাটাবেজ স্থাপন করা হয়েছে।

অবৈধভাবে রোহিঙ্গা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি অনুসন্ধানে একটি টিম পাঠানো হয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধান টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অধিকতর তদন্তের জন্য ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি কারিগরি কমিটি এবং একটি প্রশাসনিক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতের বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এর প্রতিনিধি রয়েছে। অধিকতর তদন্তের সুবিধার্থে একজন যুগ্ম-সচিবের নেতৃত্বে প্রশাসনিক কমিটি গঠন করা হয়। উভয় কমিটিতে বহিঃসংস্থার সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এনআইডি ডিজি বলেন, ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্তি রোধে করা একার দায়িত্ব না সামগ্রিক দায়িত্ব। এটি নিয়ে বিশেষ কমিটি কাজ করছে। আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি। ইসির কর্মকর্তাদেরও নজরদারি করা হচ্ছে। আর এনআইডি নিতে যেসব দলিল লাগে সেগুলো কিভাবে রোহিঙ্গারা পায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দ্বৈত ভোটার নিবন্ধন রোধে গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে জানিয়ে তিনি বলেন, দ্বৈত ভোটার পাওয়া গেলে প্রাথমিকভাবে বিধি মোতাবক প্রথমটি রেখে পরবর্তী ভোটার তথ্য ব্লক করে দেয়া হয়। উদ্দেশ্যমূলকভাবে তথ্য গোপন করে দ্বৈত ভোটার হওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ইতোমধ্যে ৯২৭ জনের এনআইডি লক করা সহ ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ধারা ১৮ এবং জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০ এর ধারা ১৪ ও ১৫ অনুসারে নির্বাচন কমিশন ফৌজদারি মামলা দায়ের করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়াও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০ এর ধারা ১৬ ও ১৭ অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা/কর্মচারী দায়িত্বে অবহেলার বিপরীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি জানান, আমরা ইতিমধ্যে ২ লাখ ৭ হাজার দ্বৈত ভোটার শনাক্ত করেছি। সবার বিষয়গুলো আমরা অবজার্ভ করছি। আমরা দেখছি উদ্দেশ্য কি ছিলো। তবে আমরা সবার বিরুদ্ধে মামলা করিনি, করবও না। যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব। তবে কেউ যদি সে বিষয়ে কমিশনে আবেদন করে, সেটি আমরা যাচাই-বাছাই করে কারণ জানব, যে কোন উদ্দেশ্যে তারা এটি করেছে। সেটি আমরা কমিশনকে অবহিত করে ব্যবস্থা নেবো। যারা দ্বৈত হয়েছে আমরা তাদের নোটিফাইড করছি। এসএমএসের মাধ্যমেও তাদের জানিয়ে দিচ্ছি। তবে সবার মোবাইল নাম্বার না থাকায় উপজেলা নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে তাদের অবহিত করার ব্যবস্থা করছি।

পাঠকের মতামত: