কক্সবাজার, শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০

রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের জন্য ৪.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান

জার্মান সরকারের সদ্য প্রদান করা ৪.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদানকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। এই অনুদান বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগণের সংকট নিরসনে ব্যবহৃত হবে।

জীবনরক্ষাকারী সহযোগিতা এখন অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক ও কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের প্রতি যে অঙ্গীকার তা পূরণে এই অনুদান বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করবে। চলমান মহামারি ও ভারি বর্ষণ যখন অরক্ষিত জনগোষ্ঠীকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত ৮ লক্ষ ৫৯ হাজার রোহিঙ্গার প্রত্যেকে খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য ডব্লিউএফপি’র সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। এছাড়াও ডব্লিউএফপি পুষ্টি ও জীবিকার ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গির উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা প্রদান করে থাকে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরেনহোল্টজ বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার ও ডব্লিউএফপি’র অনেকদিনের অংশীদার হিসেবে আমরা এটা জানতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত যে, আমাদের এই অনুদান এমন কঠিন সময়ে সব থেকে অরক্ষিত মানুষদের জীবন বাঁচাতে জনহিতকর কাজে সামনের সারিতে থাকা কর্মীদের সহায়তা করছে।

জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের মাধ্যমে প্রদান করা জার্মান সরকারের এই অনুদান খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ সেবায়ও ব্যবহার করা হবে। যাতে জরুরি টেলিযোগাযোগ সেক্টরের মাধ্যমে বৃহৎ একটি জনহিতকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যায়।

উদারতা প্রদর্শনের জন্য জার্মানির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাংলাদেশে ডব্লিউএফপি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর রিচার্ড রাগান বলেন, ‘যখন কোভিড-১৯ বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে সামাজিক বৈষম্য বাড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করছে, ঠিক সেই সময় পৃথিবীর সব থেকে অরক্ষিত জনগোষ্ঠীর প্রতি সংহতি অব্যাহত রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা।

উল্লেখ্য, নতুন এই অনুদানসহ ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়া থেকে এ পর্যন্ত জার্মানি ডব্লিউএফপি বাংলাদেশকে সর্বমোট ৩০ মিলিয়ন ইউএস ডলার প্রদান করেছে।

পাঠকের মতামত: