কক্সবাজার, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

বুড়িগঙ্গা লঞ্চডুবি : প্রত্যেক মৃতের পরিবার পাবে দেড় লাখ টাকা

বুড়িগঙ্গা নদীতে অর্ধশত যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের এ তথ্য জানানো হয়।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। এর মধ্যে জানা গেছে, লঞ্চডুবির ঘটনায় মৃত পরিবারকে দেড় লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া লাশ দাফনের জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ঘটনা তদন্তের জন্য সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সকালে ‘মর্নিং বার্ড’ নামে ছোট লঞ্চটি ‘ময়ূর-২’ নামের আরেকটি লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যাওয়ার কথা বলা হলেও কীভাবে তা হয়েছে, প্রথমদিকে বোঝা যাচ্ছিল না।  ঘটনাটি ধরা পড়েছে সদরঘাটের একটি সিসি ক্যামেরায়।

ভিডিতে দেখা যাচ্ছে, সকাল ৯টা ১২ মিনিটে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পেছন থেকে আসা ময়ূর-২ লঞ্চটি মর্নিং বার্ডকে প্রথমে বায়ের দিকে ধাক্কা দেয়। ৯টা ১৩ মিনিট ১ সেকেন্ড থেকে শুরু করে ১৩ সেকেন্ড পর্যন্ত ময়ূর-২ লঞ্চটি মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দিতে দিতে সামনে এগিয়ে যায়। এতে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি বাম পাশে হেলে পড়ে ডুবে যায়।

সদরঘাটের সিসি ক্যামেরা ফুটেজে আরও দেখা যায়, মর্নিং বার্ড ডোবার সময় ময়ূর-২ ব্রেক করে। ৯টা ১৩ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে থেকে শুরু করে ২০ সেকেন্ড সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করে ৯টা ১৩ মিনিট ২১ সেকেন্ড থেকে পেছাতে শুরু করে ময়ূর-২। ৯টা ১৩ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড পর্যন্ত লঞ্চটিকে পিছিয়ে যেতে দেখা যায়।

কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট হায়াত ইবনে সিদ্দিক বলেন, ‘জীবিত বা মৃত সবাইকে উদ্ধারের আগে পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে।

আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এমএল মর্নিং বার্ড নামের লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জের কাঠপট্টি এলাকা থেকে সদরঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। সদরঘাটের কাছেই ফরাসগঞ্জ ঘাট এলাকায় নদীতে লঞ্চটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। পাশাপাশি নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।

পাঠকের মতামত: