কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪

শিকলে বাঁধা মা-ছেলের জীবন

মায়ের ভালোবাসার তুলনা হয়না । পৃথিবীর সকল ভালোবাসা যেন মমতাময়ী মায়ের কাছে তুচ্ছ । জীবনের চাইতে মা তার সন্তানকে কতটা ভালোবাসে তার উদাহরণ রয়েছে অনেক।

হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে মা-ছেলেকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে । তাও আবার নিজের শরীরের সাথে । অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ উপজেলায় ।

জানাযায়, রহিমা খাতুনের দুই চোখে দেখতে পারেন না। শরীরে হাজারও ক্ষত চিহ্নের দাগ। সঙ্গে প্রতিবন্ধী শিশুকে নিয়ে যাযাবর জীবন কাঁটছে তার। যেখানেই রাত হয়, সেখানেই থেকে যান রহিমা। শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করে চলে মা-ছেলের সংসার। রহিমা খাতুনের ৮ বছরের শিশু সন্তান আব্দুর রহমানও মানসিক প্রতিবন্ধী। ছেলেকে হারানোর ভয়ে রহিমা খাতুন তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন সব সময়। রাতে ঘুমানোর সময়ও মায়ের শরীরের সাথে বেঁধে রাখতে দেখা গিয়েছে তাকে। মা ছেলের এই শিকল বন্দি জীবন দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

রহিমা খাতুনের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামে। সে ওই গ্রামের জয়নাল হোসেনের মেয়ে। রহিমা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল। দীর্ঘদিন রহিমা খাতুনের খোঁজখবর নেয়নি তার স্বামী। প্রতিবন্ধী এই শিশু সন্তানকে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান তিনি।

জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন চিকিৎসা নিতে। রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন হাসপাতালের মেঝেতে। ঘুমানো অবস্থায় দেখা গেছে ছেলেকে শিকলের সাথে নিজের শরীরের সাথে বেঁধে রেখেছেন। না খেয়েই হাসপাতালে ঘুমিয়ে ছিলেন মা-ছেলে। বুধবার দুপুরে সন্তানকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান রহিমা খাতুন।

হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন ইদ্রিস আলী জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে মা ও ছেলে আসে। রাতে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে ছিলেন। ছেলেকে শিকলে বেঁধে রেখেছিলেন তার শরীরের সাথে। দুইজনই না খেয়ে শুয়ে ছিলেন। ওষুধ নেওয়ার জন্য হাসপাতালে এসেছিল।

রহিমা খাতুন জানান, তার স্বামী কোন খোঁজখবর নেন না তার । প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে তিনি ভিক্ষা করেন। তার ঘর বাড়ি নেই, রাস্তায় থাকেন। দুই চোখে দেখতে পান না। বিভিন্ন রোগ-ব্যধিতে আক্রান্ত তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে এসেছিলেন ওষুধ নিতে। রাত হয়ে যাওয়ায় না খেয়ে হাসপাতালেই ঘুমিয়ে ছিলেন। ছেলের সহায়তায় চলাফেরা করেন তিনি।

রহিমা খাতুন করুণ কণ্ঠে বলেন সরকার কি আমারে একটা ঘর দিবো? যদি একটা ঘরের ব্যবস্থা কইরা দিতো তাইলে আমার বাচ্ছাদন আর আমি কষ্ট থেইক্বা বাচঁতাম ।

ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ঋতু জানান, তিনি রহিমা খাতুনকে চিনতে পারেন নি। ওই মহিলার বাড়ি তার ইউনিয়নে না বলে জানান।

পাঠকের মতামত: