কক্সবাজার, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০

শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিশুরা যেন ঘরে বসে পড়াশোনা চালিয়ে যায় এবং পাশপাশি তারা যে যেই কাজে পারদর্শী তাকে যেন সেই কাজে ব্যস্ত রাখা হয় সেদিকে ‘বিশেষ নজর’ রাখার জন্য বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শিশুরা দেশপ্রেমিক হবে, মানুষের মতো মানুষ হবে, মানুষের সেবা করবে এবং নিজেদেরকে উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে, আধুনিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত হবে। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকা যেকোনো শিশুর জন্য সত্যিই খুব কষ্টকর। কিন্তু হয়তো এই রকম অস্বাভাবিক অবস্থা থাকবে না।

তবুও আমি তাদেরকে বলবো মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। যাই হোক, ঘরে বসে পড়াশোনা করা এবং সেই সাথে সাথে নিজেদের..যা ..কেউ আর্ট করতে পারে, কেউ খেলাধুলা করতে পারে। যে যতটুকু পারে সেইটুকু তাদের করতে হবে এবং সেভাবে নিজেদেরকে ব্যস্ত রাখতে হবে যেন যখন স্কুল খুলবে তখন যেন তারা আবার ভালোভাবে স্কুলে যেতে পারে, পড়াশোনা করতে পারে সেদিকে বিশেষভাবে সবাইকে নজর রাখতে হবে বলেন তিনি।

করোনাভাইরাস মহামারি থেকে বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্ববাসী যেন মুক্ত হতে পারে সেই দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন অনুষ্ঠানে সেই নির্দেশনাও দেন সরকার প্রধান।

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, আমি হয়তো মাস্ক পড়ে কথা বলছি না কারণ আমার এখানে কেউ নাই আশেপাশে। আমি একাই আছি। যারা আছেন, অনেক দূরে। সেই জন্য আমার এটা সুবিধা আছে। কিন্তু যেখানে বেশি লোক সেখানে আমি নিজে সব সময় মাস্ক পড়ে থাকি। সবাইকে আমি বলব, যেখানেই বেশি লোক সমাগম সবাইকে মাস্ক পড়ে থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সবাইকে মেনে চলতে হবে, শরীরের প্রতি যত্ন নিতে হবে।

আওয়ামী লীগ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছে বলে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে জানিয়ে অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারার দুঃখও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, যেহেতু করোনাভাইরাস, এই সময় আমার বাইরে যাওয়ায় অনেক বাধা। তারপরও গণভবনে বসে আমি সব কাজগুলো ..রাষ্ট্রীয় কাজগুলো করে যাচ্ছি। কাজেই এখানে বসে আমি সকলের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে অন্তত মিলিত হতে পারলাম।

শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতার আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তাকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে জনগণের সমর্থনে দেশে ফেরার কথাও উল্লেখ করেন সরকার প্রধান।

অনুষ্ঠানে জাতির পিতার কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করেন তার বোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেসব কর্মসূচিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছেন সেগুলো হলো, শহীদ শেখ রাসেল- এনিমেটেড ডকুমেন্টরি ‘বুবুর দেশ’ প্রদর্শনীর উদ্বোধন, শেখ রাসেলের জীবনীর ওপর প্রকাশিত বই ‘শেখ রাসেল আমাদের আবেগ, আমাদের ভালবাসা’ এর মোড়ক উন্মোচন ও ছবি প্রদর্শনীর উদ্বোধন, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদ শেখ রাসেলের ‘ম্যুরাল’ উন্মোচন ও ‘শহীদ শেখ রাসেল ভবন’ উদ্বোধন, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের কার্যক্রম সংক্রান্ত ভিডিও চিত্র অবলোকন ‘স্মৃতির পাতায় শেখ রাসেল’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কার বিতরণ, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণসহ অন্যান্য কার্যক্রম।

এসময় গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো.তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকার শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স প্রান্ত থেকে ৮ বছরের স্টেটিং খেলোয়াড় নীলকাব্য শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষ্যে বক্তব্য রাখেন।

ভিডিও কনফারেন্সে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণ প্রান্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রান্তে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান রকিবুর রহমান, সংগঠনটির মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মতামত: