কক্সবাজার, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১

সত্যিকারের ভোট হতে হলে দুই বছরের জাতীয় সরকার লাগবে

গণসংহতি আন্দোলনের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় সত্যিকারের নির্বাচনের জন্য দুই বছর মেয়াদের জাতীয় সরকার গঠন প্রস্তাব করে বলেছেন, সত্যিকার ভোট হতে হলে দুই বছরের জন্য একটা জাতীয় সরকার লাগবে। সব পরিবর্তন করতে হবে। জাতীয় সরকার হোক, দেখবেন দুই সপ্তাহের মধ্যে ওষুধের দাম অর্ধেক হয়ে যাবে। না হলে আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেবেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে গণসংহতি আন্দোলনের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক হাসান মারুফ রুমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং মুহম্মদ আমির উদ্দিন।

পরিবর্তনের জন্য জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, পরিবর্তন দরকার। জনগণের সরকার দরকার। জনগণের সরকার হলে বিনা চিকিৎসায় কেউ মারা যাবে না। প্রত্যেক লোকের চাকরি হবে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শেখ মুজিবের বিশাল অবদান। এটাকে ছোট করা যাবে না। জিয়াউর রহমানের কথা আমি এখানে বলব না। কিন্তু সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশকে যিনি পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, তিনি হলেন নোবেলজয়ী ড. ইউনূস। পৃথিবীর কোনো দেশে হয়তো এখনো গেলে শেখ মুজিবের নাম বললে লোকজন তাকিয়ে থাকবে, কিন্তু ইউনূসের নাম বললে বলবে ওহ, ড. ইউনূস। অথচ চট্টগ্রাম শহরে তার একটা ছবি নাই। আমরা এত বড় নিমকহারাম, আমাদের মন এত ছোট।

আলোচনা সভায় জাফরুল্লাহ চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জহুর আহমদ চৌধুরীর ভাস্কর্য চোখে না পড়ায়ও একই ধরণের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে জহুর আহমদ চৌধুরীর অসামান্য অবদান। তার একটা ভাস্কর্য কি চট্টগ্রামে থাকতে পারত না?

জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করেছেন বলে অভিযোগ করেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ১২ দিন বিদেশে থেকে কত পয়সা তিনি খরচ করেছেন? অথচ খালেদা জিয়া দুই কোটি টাকা ঠিকমতো জমা না দেওয়ার কারণে দুই বছর ধরে জেলের ঘানি টানছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে টাকা খরচ করেছেন, এর অর্ধেক টাকাও যদি ব্যয় করা হতো তাহলে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা থাকত না। চট্টগ্রামে ড্রেনে পড়ে যে চার জন নাগরিক মারা গেছেন, তাদের জীবনহানি হতো না।

ভোট চুরির ইতিহাস আজকের না অনেক পুরনো উল্লেখ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এরপরও আমি শেখ হাসিনার প্রশংসা করি। আমি কিন্তু হাসিনার ভক্ত। উনি সুন্দর করে কথা বলেন। আমার নামে মাছ চুরির মামলা দিলেও দেখা হলেই ভাই ডেকে কথা বলেন।

সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, আমাদের প্রকৃতি, ফুসফুসকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম শহরে একটি হাসপাতাল আছে, যেটা ডা. রবিউল হোসেন তৈরি করেছেন। তিনি একটি চক্ষু হাসপাতালও করেছেন। পৃথিবীর একশ হাসপাতালের তালিকা করলে এই চক্ষু হাসপাতালের নাম আসবে। সিআরবিতে আর হাসপাতাল লাগবে না।

পাঠকের মতামত: