কক্সবাজার, শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০

সমুদ্র সৈকতে লাল কাঁকড়ার উৎসব

পুরো শরীর লালচে, সাদা সাদা লম্বা দুটি চোখ। চোখের ওপরে যে লাল সুতো ঝুলছে। সৈকতের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত- সবখানেই দলবেঁধে ছোটাছুটি করছে তারা। বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়া দ্বীপে এমন লাল কাঁকড়া দেখা যায় সহজেই। দেখা যেত পারকি সৈকতেও। কিন্তু যতই পর্যটক বেড়েছে ততই উধাও হয়ে গেছে সেই কাঁকড়া।

দেড় যুগ পর আবারও পারকি সৈকতে ফিরে এসেছে চোখজুড়ানো সেই লাল কাঁকড়ার দল। কর্ণফুলী নদীর মোহনার পাশে পর্যটকশূন্য পারকি সৈকতে বিলুপ্তপ্রায় এই লাল কাঁকড়া করোনাকালের সুযোগে আবারও দেখা দিয়েছে। তাছাড়া কক্সবাজার সৈকতেও দেখা গেছে সাগরলতা ও এই লাল কাঁকড়া। তবে পতেঙ্গা সৈকতে এখনও দেখা দেয়নি লাল কাঁকড়া।

পারকি সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আনোয়ারার স্থানীয় বারাসাত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ সমকালকে বলেন, সেই ছোটকাল থেকেই পারকি সাগরপাড়ে খেলাধুলা করে বড় হয়েছি। তখন পর্যটক ছিল না, সৈকতে গেলেই দেখতাম ঘুরে বেড়াচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে লাল কাঁকড়া। পরে এটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে; কিন্তু হারিয়ে ফেলেছে লাল কাঁকড়া। এবার তার প্রত্যাবর্তন সত্যিই আনন্দের ব্যাপার।

কর্ণফুলী গবেষক ও পরিবেশবিদ প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী বলেন, লাল কাঁকড়া বিশেষ ধরনের স্পর্শকাতর ও লাজুক প্রাণী। মানুষ কাছে গেলেই গর্তে ঢুকে পড়ে। মানুষের আনাগোনা না থাকলে তারা গর্ত থেকে বের হয়ে সৈকতে অবাধে বিচরণ করে। কক্সবাজার, পতেঙ্গা ও পারকি সৈকত থেকে এই কাঁকড়া বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। এখন মানুষের পদচারণা না থাকায় অনুকূল পরিবেশে সৈকতে আবারও ফিরে এসেছে তারা। এটি পরিবেশ ও প্রকৃতির জন্য সুখবর। চট্টগ্রাম শহর থেকে সড়ক পথে ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে দক্ষিণে আনোয়ারা উপজেলার বারাসাত ইউনিয়নে পারকি সৈকতের অবস্থান। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সৈকতটি কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে বাঁশখালী পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়া চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের পাশে নেভাল একাডেমি কিংবা বিমানবন্দর এলাকা থেকে কর্ণফুলী নদী পেরিয়ে সহজেই পারকি সৈকতে যাওয়া যায়। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর বেড়িবাঁধ দিতে গিয়ে বানানো ঝাউবন পারকি সৈকতের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনও পারকি সৈকত ঘিরে পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছে। এ সৈকত ঘিরে বেসরকারিভাবে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন রিসোর্ট। আছে ট্যুরিস্ট পুলিশের অস্থায়ী ফাঁড়ি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কাইয়ুম শাহ জানান, করোনার কারণে সৈকতে পর্যটকদের যাওয়া বন্ধ থাকায় লাল কাঁকড়ার বিচরণ দিন দিন বাড়ছে। শুধু লাল কাঁকড়া নয়, জীববৈচিত্র্যও ফিরতে শুরু কেেছ শূন্য সৈকতে। তবে গত কিছুদিন ধরে দেখছি স্থানীয় কিছু মানুষ বড় সাইজের লাল কাঁকড়া শিকার করছেন। যারা এ কাজ করছেন, তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। এভাবে ওরা কাঁকড়া শিকার করলে ফের হারিয়ে যাবে লাল কাঁকড়া। সবার কাছে অনুরোধ, কেউ কাঁকড়াদের বিরক্ত করবেন না।

পাঠকের মতামত: