কক্সবাজার, শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০

সারাদেশে পাসপোর্টের কার্যক্রম চালু সেপ্টেম্বরে!

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে সীমিত আকারে চলতে থাকা পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি। শুধু রিইস্যু কার্যক্রম চললেও সেটা খুবই মন্থর গতিতে চলছে। ফলে পাসপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন লাখো আবেদনকারী।

তবে সকল কার্যক্রম আবারো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাসপোর্ট অধিদফতর। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আগারগাঁওসহ সারাদেশে পাসপোর্টের কার্যক্রম চালু হতে পারে।

বুধবার (১১ আগস্ট) ইমিগ্রেশন অ্যান্ড পাসপোর্ট অধিদফতর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস শুরুর পর থেকে রি-ইস্যু বিশেষ করে হারানো পাসপোর্ট, মেয়াদ শেষ ও ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হলেও পাসপোর্ট তৈরি ও বিতরণে অনেকটা ধীর গতি রয়েছে।

এছাড়া ই-পাসপোর্ট চালু হলেও করোনার কারণে সেটিও বন্ধ রয়েছে। এমনকি যারা করোনার আগে ই-পাসপোর্টের আবেদন করেছিলেন তাদের বেশির ভাগই পাসপোর্ট হাতে পাননি। তারাও অপেক্ষায় আছেন।

পাসপোর্ট অধিদফতর সূত্রে আরো জানায়, গত ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমিত হওয়ার পর ২০ মার্চ পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ ও বিতরণ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর রিইস্যু কার্যক্রম ধীর গতিতে চললেও ডেলিভারিতে ভোগান্তি বাড়ে।

নির্দিষ্ট সময়ের দ্বিগুণ তিনগুণ সময় পার হলেও অনেকে পাসপোর্ট ডেলিভারি পায়নি। এসময় পুলিশ ভেরিফিকেশন কার্যক্রমও বন্ধ থাকে। ফলে গত পাঁচ-ছয় মাসে পাসপোর্ট প্রত্যাসীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

অবশ্য পাসপোর্টের চাহিদাও অনেক কমে যায় এসময়। শুধু প্রবাসীদের ভোগান্তি বাড়ে। বন্ধের শুরুর দিকে হজে যেতে ইচ্ছুকদের স্পেশাল সার্ভিস দেওয়া হলেও সৌদি সরকার হজ বন্ধ ঘোষণা করলে সেই চাপও আর থাকে না।

সূত্র জানায়, গত মার্চ মাসে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর আগে থেকে এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়ে আছে। অবশ্য সাধারণ ছুটির মধ্যে (২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত) স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের বাইরে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী প্রবাসী কর্মীদের জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট দেয়া হয়েছে।

কর্মকর্তাদের মতে, নতুন পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণের পর বেশির ভাগেরই ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ নেয়া সম্ভব হয়নি। আবার যাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ নেয়া হয়েছে তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়নি। এসব কারণে পাসপোর্ট তৈরির কাজ আটকে আছে। সে জন্যই নতুন পাসপোর্টের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে লাখ লাখ আবেদনকারীকে।

তাদের মতে, বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় মানুষের বিদেশ যাতায়াত নেই। সে কারণে পাসপোর্ট নেয়ার তাড়াও নেই। তবে ২৩ মার্চের আগে নতুন পাসপোর্ট নেয়ার জন্য যেসব আবেদন পড়েছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রে পুলিশ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা হচ্ছে।

আবার বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকদের যেসব আবেদন বিভিন্ন দূতাবাস হয়ে অধিদফতরে এসেছে, সেসব পাসপোর্ট সীমিত আকারে ছাপা হচ্ছে।

আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের একজন পরিচালক বলেন, ‘পাসপোর্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করতে অধিদপ্তরে  মিটিং হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাসপোর্টের কার্যক্রম সেপ্টেম্বরে খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরপর সব ধরনের পাসপোর্ট সেবা দেয়া শুরু হবে। একইসঙ্গে ই-পাসপোর্ট সেবাও নেয়া যাবে’।

পাঠকের মতামত: