কক্সবাজার, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩

সালমান শাহর জন্মদিন আজ

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর। আজকের এ দিনেই জন্মেছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা নায়ক সালমান শাহ। নব্বই দশকের এই প্রিয় মুখ ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মধ্য দিয়ে ঢালিউডে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম ছবিতেই তরুণ-তরুণীদের হার্টথ্রবে পরিণত হন তিনি।

নব্বই দশকের শুরুর দিক থেকে ১৯৯৬ সাল, মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম সালমান শাহ। সে সময় মাত্র ২৫ বছর বয়সী উচ্ছল এই তরুণের একক আধিপত্য ছিলো চলচ্চিত্র মহলে। প্রায় একচ্ছত্র রাজত্বে উপহার দিয়ে গেছেন ২৭টি ব্যবসাসফল ছবি। তার জনপ্রিয়তার পারদ এতোটাই ঊর্ধ্বগামী ছিলো যে, আজ অবধি কোনো নায়ক সে উচ্চতা ডিঙাতে পারেননি। ধূমকেতুর মতো আগমন করেই পেয়েছিলেন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। যা এতোটা অল্প সময়ে তার আগে এই বাংলায় আর কেউ পায়নি। তাকে নিয়ে আলোচনা কোনোদিন শেষ হবার নয়।

সালমান শাহ’র পারিবারিক নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার। ডাক নাম ইমন। সিলেটের দাড়িয়াপাড়ায় নানাবাড়িতে ১৯৭১ সালে জন্ম তার। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী, পেশায় সরকারি কর্মকর্তা এবং মা নীলা চৌধুরী রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন; একাধিকবার সংসদ নির্বাচনও করেছেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে সালমান শাহ বড়ো। ছোটো ভাই চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরান ইভান।

সালমান শাহ পড়াশোনা করেন খুলনার বয়রা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে। এই স্কুলে সহপাঠী ছিলেন নায়িকা মৌসুমী। যিনি পরবর্তীতে তার প্রথম চলচ্চিত্র কেয়ামত থেকে কেয়ামতের নায়িকা হন। ঢাকার ধানমণ্ডি আরব মিশন স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন ১৯৮৭ সালে। এরপরে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ধানমণ্ডির ড. মালেকা সায়েন্স কলেজ থেকে বি.কম পাস করেন।

চলচ্চিত্রে আসার আগেই তিনি ছিলেন বিবাহিত। ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট খালার বান্ধবীর মেয়ে (কেউ-বা বলেন মায়ের বান্ধবীর মেয়ে) সামিরার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। স্ত্রী সামিরা হক, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরার মেয়ে; বিউটি পার্লার ব্যবসায়ী। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সালমান শাহ তার স্ত্রী সম্পর্কে জানিয়েছেন- সালমানের ২টি চলচ্চিত্রে পোশাক পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেছেন সামিরা হক। একই সঙ্গে স্টাইল ও ফ্যাশন আইকন সালমান শাহ’র বিভিন্ন স্টাইল ও ফ্যাশন নিয়েও পরামর্শ দিতেন সামিরা হক।

সালমান শাহ পরবর্তী সময়ে যারা চলচ্চিত্রে নায়ক হওয়ার জন্য এসেছেন তারা প্রত্যেকেই বলেছেন, সালমান শাহ-ই ছিলেন তাদের অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস।

পর্দার পারফর্মেন্স দিয়ে দর্শকদের কাছে যেমন, তেমনই পর্দার বাইরে মানবিকতার কারণে সিনেমাবাসীর কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন সালমান। কিন্তু মাত্র ২৪ বছর বয়সে, ১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর থেমে যায় তার জীবনচলার পথ।

অসময়ে চলে গেলেও ২৭টি ছবিতে নিজের মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন সালমান শাহ। এত অল্পসংখ্যক ছবিতে কাজ করেছেন, তবুও সর্বকালের অন্যতম সেরা নায়কের সম্মান দেয়া হয় তাকে।

পাঠকের মতামত: