কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০

সিনহা নিহতের ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদন খতিয়ে দেখা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের নামে পত্রিকায় যেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলোর সত্য-মিথ্যা সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা নেই। তবে এভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ ঠিক হয়নি উল্লেখ করে বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

আজ বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা নিহতের ঘটনায় সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা তিন সপ্তাহ ধরে তদন্ত শেষে গত সোমবার সচিবালয়ে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে সুপারিশসহ প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। ওই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ প্রতিবেদনের বিষয়ে বলেছিলেন, ‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর এ মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী র‍্যাব এ মামলার তদন্ত করছে। এ অবস্থায় আমরা এ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করলে মূল তদন্ত ব্যাহত হতে পারে। আদালত চাইলে আমরা এ প্রতিবেদন আদালতে পেশ করব। তবে প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো আমরা বাস্তবায়ন করব।’

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দুদিনের মাথায় আজ একটি বহুল প্রচারিত পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে আমরা একটা তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। এ কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। আমাদের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি এ রিপোর্ট পর্যালোচনা করবে। একটি স্বনামধন্য পত্রিকা এ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বলে শুনেছি। আমি এ রিপোর্ট সত্য কি মিথ্যা তা বলতে পারব না। কারণ আমি নিজেও রিপোর্টটি এখনো পড়িনি। মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি এটি পর্যালোচনা করবে।’

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আরো বলেন, রিপোর্টের অংশ বিশেষ কেউ সরবরাহ করে থাকলে তিনি কাজটি ঠিক করেননি। যারা এ অবস্থায় রিপোর্টটি প্রকাশ করেছেন তাঁরাও কাজটি ঠিক করেননি। আমরা এটি খতিয়ে দেখব।’

গত ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে।

এর গত ২ আগস্ট এ তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কমিটি কার্যক্রম শুরু করে ৩ আগস্ট। সাত কর্মদিবস, অর্থাৎ ১০ আগস্ট কমিটিকে প্রতিবেদন জমাদানের সময় বেঁধে দেয় মন্ত্রণালয়। এরপর প্রথমবার কমিটির সময় বাড়ানো হয় ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। পরে কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবারও সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয় ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

এ সময়ের মধ্যে ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের বক্তব্য গ্রহণ করতে না পারায় কমিটির মেয়াদ সর্বশেষ ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ২ সেপ্টেম্বর কমিটি কক্সবাজার জেলা কারাগার ফটকে প্রদীপ কুমার দাশের বক্তব্য গ্রহণ করে। এরপরই এ কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি সমাপ্ত করে গত সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জমা দেয়।

পাঠকের মতামত: