কক্সবাজার, শুক্রবার, ২০ নভেম্বর ২০২০

সিনহা হত্যার পর লাগাম পড়েছে বন্দুকযুদ্ধে

নিকট অতীতে এমন পরিসংখ্যান দেখেনি দেশের মানুষ। চলতি বছর জুলাই পর্যন্ত যেখানে দেশে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ১৮৪; সেখানে গত ১শ দিনে সেটি নেমেছে, দুইয়ে। কক্সবাজারে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা নিহতের পর যেন, খানিক থমকে গেছে, বন্দুকযুদ্ধের বন্দুকগুলো। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই অপসংস্কৃতি বন্ধের এটাই উপযুক্ত সময়।

মেরিন ড্রাইভই যেন হয়ে উঠতো মৃত্যুপুরী।

২০১৪ সালের অক্টোবরে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর, সড়কটিতে বিভিন্ন বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২১৪ জন। যার মধ্যে অধিকাংশ তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী হলেও, কিছু বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে নানা মহলে।

এবার বন্দুকযুদ্ধের টালিখাতায় সারা দেশে চোখ বোলানো যাক। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব বলছে, চলতি বছর দেশে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ১৮৬। যার মধ্যে সর্বোচ্চ জুলাইয়ে ৪৭ জন। যে মাসের শেষদিন টেকনাফের শামলাপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খান। দেশজুড়ে আলোচিত এই ঘটনার পর যেন থেমে গেছে বন্দুকযুদ্ধের বন্দুকগুলো। সিনহার মৃত্যুর পর একশ দিনে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা মাত্র দুই। ৩ আগস্ট সিলেটে পুলিশের সাথে একজন আর ২১ অক্টোবর ঘুমধুমে বিজিবির সাথে একজন মারা যান। সেপ্টেম্বর ছিলো শুন্য।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের হিসাব বলছে, ২০০২ সাল থেকে চলতি বছর জুন পর্যন্ত বিভিন্ন বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ৩০৪৪ জন। সর্বোচ্চ ২০১৮ সালে ৪৫৮ জন। ২০০৫ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪০ জন। বাহিনীর হিসাবে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৪৬ জন নিহত হয়েছেন, পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে। র‍্যাবের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যা ১,১৫৮। তৃতীয় সর্বোচ্চ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ৭৪ জন। এছাড়া র‍্যাব পুলিশের যৌথ অপারেশনে ৫৯, যৌথ বাহিনীর হাতে ২৬, এমনকি কোস্টগার্ডের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ১৮ জন।

দুই দশকের হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে যে সংখ্যা ১৩। সেখানে গত তিন মাসে গড়ে তা একটিরও কম।

মেজর সিনহা নিহতের ঘটনায় কক্সবাজারে পুলিশ প্রধান আর সেনাপ্রধানের যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পর আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পুলিশ বিভাগ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, এটিই শেষ ঘটনা, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

পাঠকের মতামত: