কক্সবাজার, রোববার, ২২ নভেম্বর ২০২০

সীমান্তে সেনা বৃদ্ধি করে মিয়ানমার নতুন চাল দিয়েছে

রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে মিয়ানমারের দুই সেনা সদস্যের স্বীকারোক্তি ইস্যুতে সবার দৃষ্টি সরিয়ে নিতে সীমান্তে সেনা জড়ো করা মিয়ানমারের নতুন চাল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান নেয়া উচিৎ। তবে যুদ্ধে না জড়িয়ে মিয়ানমারকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

গত শুক্রবার ভোরে দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তে রাখাইন প্রদেশের কা নিউন ছুয়াং, মিন গা লার গি ও গার খু ইয়া এ তিন পয়েন্টে এক হাজারের বেশি সৈন্য জড়ো করেছে মিয়ানমার। তারপর থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুটি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।কয়েকদিন আগে রাখাইনে গণহত্যার কথা স্বীকার করে আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে মিয়ানমারের দুই সেনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিষয়টি আড়াল করতেই সীমান্তে সেনা জড়ো করার চাল চালতে পারে মিয়ানমার।সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, সবার দৃষ্টি সরিয়ে নিতে সীমান্তে সেনা জড়ো করা মিয়ানমারের নতুন চাল। মিয়ানমার চাচ্ছে সীমান্তে সংঘাত চালিয়ে রাখাইনে গণহত্যার কথা স্বীকার করে আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে জবানবন্দির বিষয়টা আড়াল করতে। তিনি আরও বলেন, ৫ লাখ থেকে ৬ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমারে রয়ে গেছে যা সে দেশের সেনাবাহিনী তাড়াতে চাচ্ছে। কারণ রোহিঙ্গাদের তাড়াতে পারলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আনন্দিত হবে। তৌহিদ হোসেন বলেন, এবার আমাদের শক্ত অবস্থানে যাওয়া উচিৎ। পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাব এনাম খান জানান, এই ধরণের ষড়যন্ত্র বা স্বার্থ বহির্বিশ্ব হয়তোবা স্বাভাবিক চোখে দেখবে না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সবসময় শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী এবং সেই কারণে বাংলাদেশ হয়তো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক মাধ্যমে সমাধান করবে।২০১৭ সালে রাখাইনে গণহত্যা থেকে বাঁচতে ৭ লাখের মতো রোহিঙ্গা পালিয়ে টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে যেখানে আগে থেকেই তিন লাখ রোহিঙ্গা বাস করতো। এখনও রাখাইনে ৫ লাখের মতো রোহিঙ্গা রয়ে গেছে। তাদেরকে পাঠিয়ে দিতে সেনা জড়ো করা হয়ে থাকতে পারে। সীমান্তে সেনা জড়ো ইস্যুতে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান নেয়া উচিৎ বলে মনে করেন তারা।বাংলাদেশ এরইমধ্যে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। বিজিবিও রয়েছে সতর্ক অবস্থানে।

পাঠকের মতামত: