কক্সবাজার, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪

স্ত্রীকে কুপিয়ে স্বামীর আত্মহত্যা

রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছে মানসিক ভারসাম্যহীন স্বামী। শুক্রবার (৪ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে উপজেলার কূর্শা ইউনিয়নের ধর্মেশ্বর মহেশা ড্রাইভার পাড়ায় ঘটনাটি ঘটে।

নিহত স্ত্রীর নাম শুভা রাণী (৪৪) আর স্বামীর নাম রবীন্দ্রনাথ (৫০) ড্রাইভার পাড়ার গৌরাঙ্গ চরণের ছেলে। শনিবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাউনিয়া থানার ওসি তদন্ত ফরহাদ মণ্ডল।

nagad
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে মানসিক রোগী স্বামী রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে স্ত্রী শুভা রাণীর ঝগড়া লাগে। ঝগড়ার একপর্যায়ে রবীন্দ্র ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় ছুরির আঘাতে গুরুতর জখম হন স্ত্রী শোভা রাণী। তাদের ঝগড়া ও চিৎকারে ছুটে আসে রবীন্দ্রনাথের ছোট ভাই চেতনা এবং চচাতো ভাই গোলাপ চন্দ্রসহ কয়েকজন‌ এলাকাবাসী। মানসিক ভারসাম্যহীন রবীন্দ্রনাথের হাতে ধারালো ছুরি দেখে ভয়ে কেউ এগিয়ে আসতে সাহস না পেলেও ভাবিকে বাঁচাতে গিয়ে ভাইয়ের ছুরির আঘাতে ছোট ভাই চেতনা গুরুতর জখম হয়।

পরে এলাকাবাসী ছুরির আঘাতে জখম হওয়া শুভা রাণী ও আহত চেতনাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৬টার দিকে শুভা রাণীর মৃত্যু হয় এবং আহত চেতনা বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে বলেও জানা যায়।

এদিকে স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে গুরুতর জখম করে ভোরেই বাড়ির গোয়ালঘরে ঢুকে দরজা আটকিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন স্বামী রবীন্দ্রনাথ। খবর পেয়ে আজ সকাল ৭টার দিকে কাউনিয়া থানা পুলিশ এসে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠান।

নিহতদের ছেলে উজ্জল চন্দ্র বলেন, বাবা দুই তিন বছর ধরেই পাগল। মাঝেমধ্যেই এ রকম করত। কিন্তু গতকাল রাতে হঠাৎ মাকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ দিতে থাকে। মাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার চাচা ও আরও বেশ কয়েকজন আহত হন। বাবাকে কন্ট্রোল করতে না পেরে আমরা রাতেই ৯৯৯ কল দিয়েছিলাম। বাবার হাতে ধারালো দা থাকায় আমরা তার সামনে যেতে পারি নাই।

রংপুর জেলা পুলিশের অ্যাডিশনাল এসপি (সি সার্কেল) হোসাইন মোহাম্মাদ আবু রায়হান জানান, এ রকম একটি ঘটনা শুনে আমরা সকালেই ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পাঠকের মতামত: