কক্সবাজার, রোববার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

স্ত্রীকে হত্যা করে লাশের পাশেই বসে ছিল ঘাতক স্বামী

কুমিল্লার তিতাসে পারিবারিক কলহের জেরে এক সন্তানের জননীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে আটক করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় উপজেলার লালপুর গ্রামে এঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে সাইফুল ইসলাম মিন্টুর (৪০) সাথে বন্দরামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হালিম মোল্লার মেয়ে আঁখি আক্তার (২১) এর ৩ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মিন্টু ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। দুই বছর পূর্বে চাকরী চলে গেলে সে বেকার হয়ে পড়ে।

তবে তার স্ত্রী আঁখি আক্তার স্থানীয় একটি কিন্ডার গার্টেনে আয়ার কাজ করে আসছিল। তাদের সংসারে আবরাহাম নামে দুই বছরের শিশুপুত্র রয়েছে। সকালে বিছানায় আবরাহাম প্রস্রাব করাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। এক পর্যায়ে মা তার শিশুপুত্রকে খাটের উপরে আছার দিয়ে ফেলে দিলে স্বামী উত্তেজিত হয়ে ঘরে থাকা লোহার পাইপ-রেঞ্জ দিয়ে স্ত্রীকে আঘাত করলে সে ঘটনাস্থলে মারা যায়।

nagad
এসময় আশেপাশের লোকজন দৌড়ে এসে আবরাহামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। অপরদিকে ৯৯৯ এর ফোন পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে তিতাস থানা পুলিশ। এসময় ঘাতক স্বামী মিন্টু ঘরের মধ্যে নিহত স্ত্রীর পাশেই বসা ছিলেন।

ঘাতক স্বামী মিন্টু ও নিহত আঁখির একাধিক আত্মীয় স্বজন জানান, মিন্টু বেকার। এর মধ্যে অভাব অনটনের মধ্যে তাদের দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে প্রায় তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হতো। গত এক সপ্তাহ আগেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলে পারিবারিকভাবে সমাধান করা হয়।

তিতাস থানার ওসি কাঞ্চন কান্তি দাশ জানান, স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামীকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়েছে। আর্থিক ও মানসিক সমস্যার কারণে প্রায় তাদের মধ্যে ঝগড়া-কলহ হতো। নিহতের মাথার ডান পাশে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লোহার পাইপ-রেঞ্জ দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। তবে শিশুপুত্র আবরাহাম সুস্থ্য আছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে।

এদিকে, আটক স্বামী তার স্ত্রীকে পাইপ-রেঞ্জ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে।

পাঠকের মতামত: