কক্সবাজার, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪

‘৩০ দিনের মধ্যে বিয়ে না করলে চাকরি হারাবেন স্কুলশিক্ষক’

টাঙ্গাইলের এক উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিয়ে করতে পাকা নোটিশ দিয়েছেন বিদ্যালয়টির প্রধানশিক্ষক। এই সময়ের মধ্যে বিয়ে না করলে তাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই সহকারী শিক্ষক। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার গোপালপুর উপজেলার সাজানপুর উচ্চবিদ্যালয়ে।

 

 

জানা গেছে, ২০১৬ সালে সহকারী শিক্ষক পদে ওই বিদ্যালয়ে যোগ দেন গোপালপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা রনি প্রতাপ পাল। গত ২৬ জুলাই তাকে বিয়ে করার জন্য নোটিশ দেন বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। নোটিশে বলা হয়, ‘বিদ্যালয়ে যোগদানের পর আপনাকে বারবার মৌখিকভাবে তাগিদ দিয়েছি বিবাহ করার জন্য। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়, কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও আপনি বিবাহ করেননি। বিদ্যালয়টিতে সহশিক্ষা চালু রয়েছে। অভিভাবকগণ অবিবাহিত শিক্ষক নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। সুতরাং বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে নোটিশপ্রাপ্তির ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিবাহের কার্য সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে পাক্কা নির্দেশ প্রদান করা হলো।’

 

শিক্ষক রনি প্রতাপ অভিযোগ করেন জানান, প্রধান শিক্ষক স্কুলের সব স্টাফকে ডেকে সবার সামনে তাকে সাফ বলে দিয়েছেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিয়ে না করলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হবে। হয়রানির ভয়ে তিনি গত ৩০ জুলাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।’

 

 

এদিকে নোটিশ পাওয়ার দুই দিন পর স্কুলশিক্ষক রনি প্রতাপ প্রধান শিক্ষককে লিখিত জবাব দেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার অভিভাবকেরা আমার বিয়ের চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের বিয়ের পাত্রপাত্রী বাছাইয়ে গাত্র বা বর্ণের বিষয় রয়েছে। তা ছাড়া হিন্দুধর্মাবলম্বীরা শ্রাবণ থেকে কার্তিক পর্যন্ত বিয়ে করাটা শুভ মনে করে না। সুতরাং পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতির কারণে আগামী অগ্রহায়ণ মাসে আমার অভিভাবকেরা আমাকে বিবাহ করাবেন বলে জানিয়েছেন।’

 

শিক্ষক রনি বলেন, ‘আমি অবিবাহিত থাকলেও কোনো অভিভাবক বা শিক্ষার্থী আমার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ করেনি।’

 

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সহশিক্ষা চলমান রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানে অবিবাহিত শিক্ষক থাকলে নানা অসুবিধা হতেই পারে। এ জন্য তাকে দ্রুত বিয়ে করার নোটিশ দেয়া হয়েছে।

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি খুবই লজ্জাজনক। এভাবে নোটিশ করার এখতিয়ার কোনো প্রধানশিক্ষকের নেই।’

পাঠকের মতামত: