কক্সবাজার, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০

৩ মাসে ৯৫ নৌ দুর্ঘটনায় ১৪৯ জনের মৃত্যু

সারা দেশে বিভিন্ন নৌপথে গত তিন মাসে ৯৫টি নৌ দুর্ঘটনায় ১৪৯ জনের মৃত্যু এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন। মৃতদের মধ্যে নারী ২২ জন ও শিশু ৪৪ জন। এছাড়া এ সময়ে নিখোঁজ হয়েছেন আরো অন্তত ৫৮ জন। ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

শনিবার দু’টি বেসরকারি সংগঠন গ্রিন ক্লাব অব বাংলাদেশ (জিসিবি) এবং নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির যৌথ জরিপে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। ২৪টি জাতীয় ও ১০টি আঞ্চলিক দৈনিক এবং ৯টি অনলাইন নিউজপোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য-উপাত্ত সংগৃহিত হয়েছে।

এর মধ্যে আগস্টে সবচেয়ে বেশি ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৮৬ জন মারা গেছে; যার মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা যথাক্রমে ১০ ও ৩১। এছাড়া ছয়জন আহত ও ২৩ জন নিখোঁজ হয়েছে। এই মাসের ৫ তারিখ নেত্রকোনার মদন উপজেলার উচিৎপুর হাওরাঞ্চলে যাত্রীবোঝাই ট্রলার নিমজ্জ্বিত হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৮ জন মারা যায়।

জুলাইয়ে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ছয় নারী ও পাঁচ শিশুসহ ৪১ জনের মৃত্যু এবং ১০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ হয়েছে ১৭ জন। সেপ্টেম্বরে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১০টি। এতে ছয় নারী ও আট শিশুসহ ২২ জনের মৃত্য এবং ১০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ হয়েছে ১৮ জন।

জিসিবির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, লঞ্চ দুর্ঘটনা সহনীয় মাত্রায় নেমে আসলেও বছরজুড়ে সারা দেশেই বিচ্ছিন্নভাবে যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে লঞ্চের মতো একসঙ্গে অনেক যাত্রী মারা না গেলেও প্রায় প্রতিটি ঘটনায়ই এক বা একাধিক প্রাণহানি ঘটছে।

নিজেদের পর্যবেক্ষণের বরাত দিয়ে আশীষ কুমার দে বলেন, নৌ চলাচল ব্যবস্থার ওপর সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাব, কঠোর তদারকির ক্ষেত্রে ওইসব সংস্থার জনবল সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতা, বিপুলসংখ্যক অবৈধ নৌযান চলাচল, দক্ষ মাস্টার ও ড্রাইভারের স্বল্পতা, দুর্বল আইন ও বিধিমালা এবং বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়ার কারণেই নৌ দুর্ঘটনা সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনা যাচ্ছে না।

পাঠকের মতামত: