কক্সবাজার, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০

৫৪,০০০ রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দেয়ার সৌদি চাপ কি মেনে নেবে বাংলাদেশ

সৌদি আরব সে দেশে অবস্থানরত কমপক্ষে ৫৪,০০০ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিতে যে চাপ দিচ্ছে, তাতে বাংলাদেশ রাজি নয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. কে. আব্দুল মোমেন এমন ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন যাদের কোনো ডকুমেন্ট নেই তাদের কেন বাংলাদেশ পাসপোর্ট দেবে।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্য একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, পাসপোর্ট দেয়া না হলে সৌদি আরবে কর্মরত অভিবাসী বাংলাদেশিদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেয়া হচ্ছে।

তবে এব্যাপারে সৌদি সরকারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেয়া বা না দেয়ার ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কে কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে কিনা – এই প্রশ্নও সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে।

একইসাথে সৌদি আরবে থাকা কমপক্ষে ২২ লাখ বাংলাদেশির জন্য বিষয়টি কোন হুমকি তৈরি করবে কিনা – এনিয়েও নানা আলোচনা চলছে।

পাসপোর্ট ইস্যুতে কী আলোচনা?

সৌদি আরবে বাংলাদেশের দূতাবাসে নতুন একজন রাষ্ট্রদূত যোগদান করেছেন অল্প কিছুদিন আগে। তার সাথে প্রথম বৈঠকেই সৌদি কর্তৃপক্ষ সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করে ব

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেছেন, “সৌদি আরব বলেছে যে তাদের দেশে স্টেটলেস লোক তারা রাখে না। তাদের দেশে থাকা ৫৪,০০০ রোহিঙ্গার কোন পাসপোর্ট নাই। তারা বলেছে, তোমাদের বাংলাদেশ থেকেতো রোহিঙ্গা অনেকে এখানে এসেছে, সুতরাং তোমরা যদি এদের পাসপোর্ট ইস্যু করো।”

তিনি আরও বলেছেন, “আমরা বলেছি যে, ওদের যদি আগে কখনও বাংলাদেশের পাসপোর্ট থাকে কিংবা যদি কোন প্রমাণ দেখাতে পারে, তাহলে আমরা অবশ্যই তাদের পাসপোর্ট ইস্যু করবো। অন্যথায় আমরা কিভাবে করি? তখন তারা বলেছে, পাসপোর্ট ইস্যুর অর্থ এই নয় যে আমরা তাদের তোমাদের দেশে বিতাড়িত করবো। তারা বলেছে, যেহেতু স্টেটলেস লোক সৌদি আরবে রাখা হয় না, সেজন্য পাসপোর্ট দিতে বলছি।”

“যাদের বাংলাদেশের কোন ডকুমেন্ট নাই, তাদের আমরা পাসপোর্ট দেবো কেন? আমরা তাদের বলেছি, তোমরা মিয়ানমারের সাথে এটা নিয়ে কথা বলো। তো, এনিয়ে আলোচনা চলছে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি: মোমেনের বক্তব্য হচ্ছে, সৌদি আরবই স্বত:প্রণোদিত হয়ে ৫৪,০০০ রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে আশ্রয় দিয়েছিল।

“১৯৭৭ সালে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে নির্যাতিত হচ্ছিল, তখন তৎকালীণ সৌদি বাদশাহ ঘোষণা করলেন যে, তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবেন। তাই অনেক রোহিঙ্গা সৌদি আরবে যায়। এরা ৩০ বা ৪০ বছর ধরে ঐ দেশে আছে। ওদের ছেলে মেয়ের সেখানে জন্ম হয়েছে। কিন্তু ওদের কোন পাসপোর্ট নাই।”

মি: মোমেন জানান “এর আগে ৪৬২ জন রোহিঙ্গাকে যারা সৌদি আরবে জেলে আছে, তাদের বাংলাদেশে আনার জন্য বলেছিল। সেখানে বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা যাচাই করে দেখেছেন যে জেলে থাকাদের মধ্যে ৭০ বা ৮০ জনের মনে হয় বাংলাদেশের পাসপোর্ট ছিল। বাকিদের ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। যাদের বাংলাদেশের পাসপোর্ট ছিল, আমরা তাদের ট্রাভেল ডকুমেন্ট দিয়ে নিয়ে আসবো। কিন্তু যাদের নাই, তাদের আমরা আনবো কেন?” এই প্রশ্ন তিনি করেন।

একজন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন মনে করেন, সৌদিতে থাকা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেয়া হলে, সেটা মিয়ানমার অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করার সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, “মিয়ানমার তখন বলতে পারবে যে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের লোক। ফলে সৌদির প্রস্তাব অনুযায়ী পাসপোর্ট দেয়া ঠিক হবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেও এমন ইঙ্গিত আসছে।”

পাঠকের মতামত: