কক্সবাজার, শনিবার, ২১ নভেম্বর ২০২০

উখিয়ায় টানা ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা

রফিক উদ্দিন বাবল, উখিয়া::

সপ্তাহ কাল ধরে উখিয়ার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া টানা ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে উঠেছে। নিম্নাঞ্চল সমূহ প্লাবিত হয়ে আমন চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মক ভাবে। সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়ে মাছ চাষীদের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অবিরাম বর্ষনের ফলে পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানির আশংকা করে ইতিমধ্যেই উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন দুযোর্গপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত
পরিবারদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, টানা ও ভারী বর্ষণে দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের পরিবার গুলোকে পোহাতে হয়েছে নানা রকম দুভোর্গ। পালংখালী ইউনিয়নের বিস্তৃুর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার ফলে চিংড়ি ঘেরগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চিংড়ি ও মাছ চাষীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আনজুমান পাড়া গ্রামের চিংড়ি চাষী আলতাজ আহমদ জানান, আনজুমান পাড়া এলাকায় প্রায় এক হাজার একর চিংড়ি খামারে প্রায় ছয় শতাধিক পরিবার মাছ চাষ করে জীবিকা নিবার্হ করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। অত্র এলাকা থেকে উৎপাদিত চিংড়ি বিদেশে রপ্তানী করে সরকারের রাজস্ব আয়ে অবদান রাখলেও চিংড়ি ঘের রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ওই চিংড়ি চাষী জানান, নাফ নদী সংলগ্ন চিংড়ি ঘেরের বেড়ি বাঁধটি সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকবার আবেদন নিবেদন করেও কোন কাজ হয়নি। যে কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানি ঢুকে চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়ে চাষীদের সংরক্ষিত চিংড়ি ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে যায়। বালুখালী এলাকার চিংড়ি চাষী নুরুল ইসলাম জানান, অত্র এলাকার চিংড়ি চাষীরা
প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে চিংড়ি উৎপাদন করলেও তারা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারে না। কারণ
জানতে চাইলে ওই চিংড়ি চাষী জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই নাফ নদীর জোয়ারের পানি ও সীমান্তের পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির ঢলে চিংড়ি ঘের গুলো মুহুর্তেই তলিয়ে যায়।

এদিকে টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আমন চাষাবাদ মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন। রাজাপালং ইউনিয়নের দোছরী এলাকার কৃষক আবুল খায়ের জানান, তার ২ একর জমিতে আমন চাষের জন্য বীজতলা রোপন করেছিলেন। ভারী বর্ষণে ও পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির ঢলে ওই বীজতলা নষ্ট করেছে। এখন তাকে জমিতে চারা রোপন করতে হলে আবার নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে। এভাবে বেশ কয়েকজন কৃষক কৃষি
কাজে ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ করতে দেখা গেছে।
এছাড়া পান ও মৌসুমী শাক সবজ্বি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ফলে কৃষকেরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কথা স্বীকার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু মাসুদ জানান, উপজেলায় প্রতি মৌসুমে ৮ হাজার ৫শ’ একর জমিতে আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারী বর্ষণের ফলে কৃষকেরা নির্ধারিত সময়ে জমিতে চারা রোপন করতে পারেনি। অনেকের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বৃষ্টি থামলে নতুন করে আমন চাষাবাদের কৃষকরা ঝুঁকি নিলে লক্ষ্যমাত্রা উৎপাদন তেমন কোন ব্যাহত হবে না। তিনি বলেন, কৃষকদের সব ধরনের সহযোগীতা করার জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন বনাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত পরিবার ও তেলখোলা মোছারখোলা
এলাকায় ক্ষুদ্র উপজাতি সম্প্রদায়ের ব্যাপারে পাহাড় ধ্বস থেকে রক্ষা ও তাদের নিরাপদ আশ্রয়
সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, প্রতিটি ইউনিয়নের দায়িত্বরত চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের এ ব্যাপারে যথাযথ খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া উপজেলা বন রেঞ্জ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বনবিভাগের আওতাধীন পাহাড়,
টিলায় ও পাহাড়ের খাদে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসরত পরিবারদের সরিয়ে নিতে যতদুর সম্ভব উদ্যোগ
গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বেপরোয়া জীবন যাপনে অভ্যাস্ত রোহিঙ্গারা পাহাড়ের আনাছে কানাছে ঘর বেঁধে অবৈধ ভাবে বসবাস করছে। ইতিপূর্বে এসব ঘরবাড়িগুলো উচ্ছেদ করা হলেও তারা পুণরায় ঘর নিমার্ণ করে যথারীতি বসবাস করে যাচ্ছে। এব্যাপারে তাদের জন্য বন মামলা করা হলেও তারা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী ও রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী জানান, টানা বর্ষণে বিভিন্ন পাহাড়ী এলাকায় ও নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত ঘরবাড়ি, ক্ষেতখামার জনপদ তলিয়ে
গেছে। তারা দুযোর্গপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছে বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের
জানিয়েছেন।

পাঠকের মতামত: