কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০২০

খানা-খন্দে ভরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক ::  

দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ কক্সবাজার ও পার্বত্য বান্দরবান জেলায় যাতায়তের একমাত্র মাধ্যম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পুরোটাই বর্ষার টানা বৃষ্টিতে অসংখ্য খানা-খন্দে ভরে গেছে। এ সড়কের নতুন ব্রীজ থেকে কক্সবাজার টার্মিনাল পর্যন্ত পুরো সড়ক জুড়ে কাপের্টিং উঠে গিয়ে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীবাহি বাস সহ সকল ধরণের যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। ঝুকি নিয়ে যান চলায় বাড়ছে প্রতিনিয়ত সড়কে দূর্ঘটনা। ফলে ঘরে ফেরা মানুষেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রতিনিয়ত এমন অভিযোগ সচেতন যাত্রী সাধারণের।

জানা গেছে চট্টগ্রামের নতুন ব্রীজ হয়ে পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া এবং কক্সবাজারের চকরিয়া, রামু ও সদর উপজেলার উপরদিয়ে গেছে প্রায় ১৬৫ কি:মি: দীর্ঘ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। কক্সবাজারে অবস্থিত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত আর পাহাড়ের রাণী পার্বত্য জেলা বান্দরবন। এ কারণে দুটি জেলা পর্যটন সমৃদ্ধ হওয়ায় এসড়কে দেশ-বিদেশের মানুষের যাতায়াত অত্যন্ত বেশি। তাই ব্যস্ততম এ সড়কে যান বাহনের চাপও অত্যাধিক। কিন্তু সে হিসেবে সড়ক দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত সড়ক ও জনপথ বিভাগের তদারকি নিয়মিত সংস্কার কিংবা মেরামত তেমন চোখে পড়ে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে পটিয়ার শান্তিরহাট, আনজুরহাট, পটিয়া স্টেশন, হরনা, চন্দনাইশের রোশনহাট, বাদামতলী, গাছবাড়িয়া, বাগিছাহাট, হাশিমপুর, দোহাজারী, মৌলভীর দোকান, সাতকানিয়ার কেরাণীহাট, ঠাকুরদিঘী, লোহাগাড়া অংশের পদুয়া তেওয়ারীহাট থেকে উপজেলা সদরের বটতলী মোটর ষ্টেশন, আধুনগর খাঁন হাট ও চুনতি ডেপুটিহাট থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

অপরদিকে কক্সবাজরের চকরিয়া অংশের আজিজনগর স্টেশন, হারবাং স্টেশন, বরইতলী নতুন রাস্তারমাথা, চিরিংগা বাসস্টেশন থেকে নতুন টার্মিনাল, ভেন্ডিবাজার, রিংভং ঢালা, মালুমঘাট, ডুলাহাজারা, খুটাখালী বাজার, ফুলছড়ি, রামু অংশের জোয়ারিয়ানালা, বাইপাস, খরুলিয়া বাজার, সদর উপজেলার নাপিতখালী, ঈদগাঁও স্টেশন পানিরছড়া বাজার, কালিরছড়া, বাংলাবাজার, লিংক রোড় থেকে উপজেলা পরিষদের সামনে হয়ে কক্সবাজার টার্মিনাল পর্যন্ত পুরো সড়ক জুড়ে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। শুকনো মওসুমে সংস্কার না করাতে বর্ষায় লাগাতার বৃষ্টিতে পানি জমে এসব গর্ত আরো বড় হয়ে গেছে। যদিও দোহাজারী ও কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, এ মহাসড়কের বাজার ও স্টেশন এলাকায় এবং পাহাড়ী ঢালাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি সহজে সরে যেতে না পেতে জমাট বেধে থাকে। তার উপর দ্রæত গতির যানবাহন গুলো ব্রেক মারার কারণে সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে এসব গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে ঘর মুখো মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে বেশি।

এদিকে, মহাসড়কে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শতশত ভারী ও হালকা যানবাহন। যানবাহন চলাচলের সময় গর্তে জমে থাকা ময়লা পানি পথচারীদের গায়ে ছিটকে পড়ছে। আর প্রতিনিয়ত এসব ময়লা পানিতে নষ্ট হচ্ছে মানুষের মূল্যবান কাপড়-চোপড়।

এ প্রসঙ্গে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চকরিয়া উপজেলা কমিটির আহবায়ক আলফাজ উদ্দিন শরীফ জানান, এই মহাসড়ক দিয়ে অসংখ্য যানবাহন চলাচল করবে। মহাসড়কের খানাখন্দ মেরামত না হয়নি, এতে ফের যানজট সৃষ্টি সহ যাত্রী বিড়ম্বনার বাড়বে।
বাসচালকেরা জানান, প্রতিবছর বৃষ্টিতে মহাসড়কে ছোট-বড় গর্ত হয়। এ অবস্থায় একদিকে যানবাহন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে অন্যদিকে যাত্রীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার আশংকা থাকার পরও হাজার হাজার যাত্রীকে বাধ্য হয়েই চলাচল করতে হচ্ছে মহাসড়ক দিয়ে।

দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ জানান, মানুষ যাতে এবার সড়ক পথে নির্বিঘেœ যাতায়াত করতে পারেন সেজন্য মহাসড়কে আমাদের তিনটি গাড়ি অলরেডি মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে মহাসড়কের সংস্কার কাজ দ্রæতই শেষ করা হবে। একই কথা বললেন কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু কুমার চাকমা।

পাঠকের মতামত: