কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০

পা হারানো প্রদীপের পাঠশালা

প্রদীপ বাড়ৈ। সড়ক দুর্ঘটনায় এক পা হারিয়েছেন। কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। কারও করুণার পাত্রও হননি। ক্রাচে ভর করেই চালিয়ে যাচ্ছেন জীবন সংগ্রাম। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিলিয়ে দিচ্ছেন শিক্ষার আলো। বিনা পারিশ্রমিকেই পড়াচ্ছেন তিনি।

গত বুধবার কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে প্রদীপ বাড়ৈর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির আঙ্গিনায় তিনি শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাচ্ছেন। তিনি এসব শিশু শিক্ষার্থীদের বোঝান শুধু বই পড়ে বিদ্যালয়ে গেলেই সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া যায় না।

বই পড়ে শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষাও গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই তোমরা সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবে। এ বিষয়ে প্রদীপ বাড়ৈর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ১৯৯৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে তিনি ঢাকায় খ্রিষ্ট ধর্মীয় একটি ব্যাপ্টিজ চার্চে চাকরি নেন। চাকরিতে অবস্থান কালে ধর্মীয় প্রচারে যাবার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় তার ডান পা হারান। পা হারিয়ে বাড়িতে চলে আসেন। বাড়িতে অবস্থান কালে তিনি সমাজের জন্য কিছু একটা করার পরিকল্পনা করেন। এরপর থেকে তিনি গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠদান শুরু করেন। সেই থেকে ক্র্যাচে ভর করে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে উপস্থিত হয়ে দেড়-শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীকে বিনা বেতনে পাঠদান করাচ্ছেন। তার কাছে পড়তে আসা চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী পূজা বাড়ৈ, তৃতীয় শ্রেণির পায়েল, পঞ্চম শ্রেণির হিমচাদ জানায়, আগে বিদ্যালয়ের স্যারদের কাছে টাকা দিয়ে প্রাইভেট পড়তাম। প্রদীপ স্যারের কথা শুনে ওনার কাছে পড়তে আসি। এখন আর আমাদের টাকা দিয়ে পড়তে হয় না। প্রদীপ বাড়ৈ জানান, স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে আমার সংসার। ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে এবং মেয়ে প্রথম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। বাড়ির পাশে নিজস্ব একটি চায়ের দোকানে স্ত্রী যে টাকা আয় করে তা দিয়ে ছেলের লেখাপড়ার খরচসহ কোনো রকমে খেয়ে পরে বেঁচে আছি। পঙ্গু হয়েছি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবো না। আমার পরিশ্রমে যদি কারো এতোটুকু উপকারে আসতে পারি তাহলে মানসিকভাবে শান্তি পাবো। নিজ বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে বিনা বেতনে শিশু শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া শিখিয়ে যাচ্ছি। কোনো মহল থেকে আর্থিক সাহায্য পেলে আমি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এলাকার গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান আরো বাড়িয়ে দিতে পারবো।

পাঠকের মতামত: