কক্সবাজার, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

মেসি থাকায় লাভের গুড় শুধু বার্সাই পাচ্ছে না

লিওনেল মেসি থাকছেন বার্সেলোনায়। কাতালান ক্লাবটির জন্য জন্য এর চেয়ে ভালো খবর আর কিছু হতে পারে না। ক্লাবের সেরা তারকাকে ধরে রাখার লাভ তো শুধু মাঠে নয়। মাঠের বাইরেও যে অনেক লাভ। তবে লাভের গুড়ের ভাগ শুধু ক্যাম্প ন্যু-র ক্লাবটির নয়, মেসি থেকে যাওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হবে বার্সেলোনা শহরও।

এক আজগুবি প্রসঙ্গ তোলা যাক। ধরুন, ঢাকার একটি ক্লাবে অনুশীলন করেন মেসি—বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার এবং অধিকাংশের মতেই সর্বকালের অন্যতম সেরা। এমন ফুটবলার ঢাকায় থাকলে খুব স্বাভাবিকভাবেই শহরটিতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন আলাদাভাবে। ঢাকায় ঘুরতে আসার অন্যতম আকর্ষণ হবেন মেসি। তবে বার্সেলোনা শহরের ব্যাপারই আলাদা। সেখানে তারকা তো শুধু মেসি নয়। তবু বার্সেলোনা শহরে ঘুরতে আসা পর্যটকদের আলাদা নজর থাকে মেসির ওপর। ক্যাম্প ন্যু-তে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে যদি একবার দেখতে পেতাম! এ ভাবনাটা মার খেয়ে যেত মেসি চলে গেলে। থেকে যাওয়ায় পর্যটন থেকে স্পেনের এ শহরটির আয়েও ভূমিকা থাকছে আর্জেন্টাইন তারকার।

মেসি বার্সায় থেকে যাওয়ায় ব্যবসায়িকভাবে কী কী লাভ হলো, তার অনুসন্ধানে স্পেনের শিল্প বিশেষজ্ঞদের কথা বলেছে সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’। স্পেনের এসপিএসজি কনসালটিং ফার্মের প্রধান নির্বাহী কার্লোস কান্তো জানিয়েছেন, টিকিটি কেটে ক্যাম্প ন্যু তে মেসির খেলা দেখতে যাওয়ার আগ্রহটা বেশ ভালোই দেখা যায় পর্যটকদের মধ্যে। অর্থাৎ মেসি থেকে যাওয়ায় বার্সার ‘গেট মানি’ থেকে আয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনাটা নেই। আর মেসিকে দেখতে এসে পর্যটকদের বার্সেলোনা শহরে ঘোরাফেরা ও থাকা থেকে আয় তো আছেই স্থানীয় প্রশাসনের।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন কার্লোস কান্তো, ‘টিকিটের কথা বিবেচনা করলে, ২০০-৩০০ ইউরো খরচ করে বিশ্বের সেরা ফুটবলারকে দেখার আগ্রহ আছে পর্যটকদের মধ্যে। ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যটকের বার্সেলোনা শহরে আসার পেছনে প্রধান অগ্রাধিকার থাকে এটা। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় এখানে না থাকলে শহরে তার প্রভাব পড়বে।’ ক্রীড়া বিপণন প্রতিষ্ঠান অক্টাগনের প্রধান ডেভিড সেরাহিমার মন্তব্য,‘আমি নিশ্চিত মেসি সেখানে না থাকলে সদস্যের বাইরের লোকদের মধ্যে টিকিট বিক্রির ওপর প্রভাব পড়বে।’

অর্থাৎ, বার্সেলোনা শহরে ভক্ত কিংবা পর্যটকদের ঘুরে আসার অন্যতম আকর্ষণ হলেন মেসি—কথাটা যেমন ঠিক আবার আংশিকভাবে ভুলও। মেসি শুধু পর্যটক এবং ভক্তদেরই আকর্ষণ নন, খুদে ফুটবলারদেরও। বার্সার ফুটবলার ‘লা মাসিয়া’র কথা ধরুন। খেলাধুলায় এ হিসেবটা সহজ। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার যে ক্লাবে থাকবেন সেখানকার একাডেমিতে খুদে ফুটবলারদের ভর্তি হওয়ার ঝোঁকটা একটু বেশিই হবে। আর তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই মেসি ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিলে ‘লা মাসিয়া’র দিকে ঝোঁকটা কমত খুদেদের।

ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের বাইরে বার্সা খেলোয়াড়দের পোস্টার। তাতে চোখ এক খুদে ভক্তের।
ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের বাইরে বার্সা খেলোয়াড়দের পোস্টার। তাতে চোখ এক খুদে ভক্তের।ছবি: এএফপি
কান্তোর ব্যাখ্যা, ‘একাডেমির কথা ভাবুন, মেসির ক্লাবের হয়ে খেলা একজন খুদে ফুটবলারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বার্সেলোনার ব্র্যান্ডও গুরুত্বপূর্ণ তবে মেসি থাকলে সেটা বোনাস।’ তবে শুধু মাঠ নয় মাঠের বাইরেও মেসির থাকা না থাকার প্রভাব পড়বে বার্সেলোনা শহরের হিসাবরক্ষণে। খেলাধুলা, বিজ্ঞাপন, বিনোদজন জগতে ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ করা ‘দ্য কানেক্ট’ এর প্রতিষ্ঠাতা রায়েদ লুইস বায়েজ ব্যাখ্যা করলেন, ‘মাথায় রাখতে হবে মেসির জার্সি বিক্রি হয়, আমার যদি ভুল না হয় অঙ্কটা প্রায় ২ মিলিয়ন ইউরো। টাকাটা বড় অঙ্কের এবং তা খুব দ্রুতই পুষিয়ে নেওয়া কঠিন।’ এ ছাড়াও মেসি থাকলে বার্সার স্পনসর চুক্তিরও অভাব হবে না। লুইস বায়েজের ভাষায়, ‘যেদিন সে চলে যাবে বার্সার স্পনসর চুক্তির দামও পড়ে যাবে—সেটা আনুমানিক প্রায় ৩০ শতাংশের মতো।’

তবে লা লিগার ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা বলেই মনে করেন কান্তো। মেসি বার্সা ছাড়লে ক্লাবটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিন্তু লা লিগার তেমন সমস্যা হবে বরং লাভ হবে বলেই মনে করেন তিনি, ‘তারকাদের ওপর ভরসা করে নয় বরং তারা (লা লিগা) নিজেরা চেষ্টা করে ব্র্যান্ড মূল্য মজবুত করছে।’ বিষয়টি আরেকটু খোলাসা করলেন ডেভিড সেরাহিমা, ‘একজন খেলোয়াড় বা তারকার ওপর লা লিগার নির্ভরতা খুব কম। অলিম্পিকে যেমন উসাইন বোল্ট কিংবা মাইকেল ফেলপস কিংবা রজার ফেদেরার উইম্বলডন ছাড়লে যা ঘটবে।’

মোটকথা, মেসির বার্সায় থেকে যাওয়ার লাভটা শুধু ক্লাবের নয় শহরেরও। এমনকি শহর ছাড়িয়ে বাইরের পর্যটকদেরও। হোক না টাকা খরচ করে, তবু বার্সেলোনায় আসতে ব্যাগ গোছানোর সময় মেসির কথা নিশ্চয়ই তাঁদের মাথায় থাকে!

পাঠকের মতামত: