কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০

সিনহা হত্যা : এসপি মাসুদকে আসামিভুক্ত করার আবেদন খারিজ

সেনাবাহিনীর মেজর (অবঃ) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আদালতে দায়ের করা আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার বিকালে একটি নির্দেশনা দিয়ে আবেদনটি খারিজ করেন বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রসিকিইটর (পিপি) এড. ফরিদুল আলম।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে একটি আবেদন করেন সিনহা হত্যা মামলার বাদী ও নিহত সিনহার বোন শারমীন শাহরিয়া ফেরদৌস। আবেদনটি আমলে নিয়ে শুনানি শেষে আদেশের অপেক্ষায় রেখেছিলেন আদালত। বিকালে এক আদেশে তা খারিজ করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোস্তফা সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে জানান, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার তদন্তকাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেই চলেছেন। তিনি সিনহা হত্যা মামলার আসামি বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকতকে কারাগারে ডিভিশন দেয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন।

আসামিদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন এসপি। অর্থাৎ এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন তার দাফতরিক কার্যক্ষমতা আসামিদের পক্ষে কাজে লাগাচ্ছেন। তাই তাকে মেজর সিনহা হত্যা মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি ফৌজদারি আবেদন করেছি। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে শুনানি শেষে আদেশের অপেক্ষায় রেখেছেন।

তবে এ ব্যাপারে কক্সবাজারের এসপি মাসুদ হোসেন বলেন, কক্সবাজার কারাগার থেকে কারা সুপার মো. মোকাম্মেল হোসেন বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা কিনা তার সত্যতা নিশ্চিত করতে আমাকে তার স্বাক্ষরিত চিঠি দিয়েছিল।
আমি ওই চিঠির প্রতিটি লাইন পর্যাবেক্ষণপূর্বক জবাব দিয়েছি। সেখানে কোনো কর্মকর্তাকে ডিভিশন দেয়ার কথা উল্লেখ নেই।

নিহত সিনহার বড় বোন শারমীন শাহরিয়া ফেরদৌস জানান, এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন ঘটনার শুরু থেকেই আসামিদের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। উনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। মেজর (অব.) সিনহার মানহানি করেছেন। ওই সময় তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মেজর সিনহার গাড়িতে তিনি ইয়াবা ও মাদকদ্রব্য পেয়েছিলেন। একজন পুলিশ সুপার হিসেবে তিনি এটি বলতে পারেন না। তিনি তদন্তকাজে প্রতিনিয়ত বাধা সৃষ্টি করে চলেছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এসপি মাসুদ হোসেনকে ওই মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবে।

কক্সবাজার আলতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এড. ফরিদুল আলম বিকালে সাংবাদিকদের বলেন,সিনহা হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেনকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বাদী আদালতে একটি আবেদন করেন।

আবেদনের শুনানি শেষে আদালত একটি নির্দেশনা দিয়ে আবেদন খারিজ করে দেন।

তিনি বলেন, আদালতের দেয়া দিকনির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, সিনহা হত্যা মামলায় কেউ হস্তক্ষেপ করলে বা প্রভাববিস্তার করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ক্ষমতা তদন্তকারী কর্মকর্তার রয়েছেন, বিধায় এই আবেদনটি খারিজ করে দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারে ফেরার পথে বাহারছড়া শামলাপুর এবিপিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর মেজর (অবঃ) সিনহা মো. রাশেদ খান। গত ৫ আগস্ট টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকতসহ ৯ জনকে আসামি করে কক্সবাজার সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন নিহত সিনহার বড় বোন শারমীন শাহরিয়া ফেরদৌস। এ ঘটনায় পুলিশ ও পুলিশের সোর্সসহ ১৩ আসামি কক্সবাজার কারাগারে আছেন।

পাঠকের মতামত: