কক্সবাজার, রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২০

যেভাবে হচ্ছে মাধ্যমিকের প্রমোশন

আগের বছরের ফল মূল্যায়ন অথবা মূল বিষয়ের ওপর অনলাইন পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। চলতি সপ্তাহে এ নির্দেশনা দেয়া হবে বলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে জানা গেছে।

চলতি সপ্তাহে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি অনলাইন মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারেন।

জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি ক্লাস-পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব না হলেও প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে প্রধান বিষয়গুলোর পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা আসতে পারে। তবে যেখানে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হবে না সেখানে আগের ক্লাসের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী ক্লাসে পাস দিয়ে শ্রেণি রোল নির্ধারণ করার নির্দেশনা দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিম্ন মাধ্যমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে কীভাবে উন্নীত করা হবে সে বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেবেন। চলতি সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়া হবে।

অন্যদিকে আগের ক্লাসের ফলাফলের ভিত্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীকে পাস করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে (ডিপিই) থেকে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপিই মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. সোহেল বলেন, বর্তমানে স্কুল খোলা বা পরীক্ষা নেয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। এ জন্য আগের ক্লাসের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন করে পাস দেয়া হতে পারে। এর মাধ্যমে পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আগেই রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি ও পরীক্ষা ফি আদায় করতে অনলাইনে বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া শুরু হয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণায়ের নির্দেশনা ছাড়া পরীক্ষা শুরু করলে তা অন্যায় বলে বিবেচ্য হবে। এ ধরনের কার্যক্রম না করতে মাউশির মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দিতে আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আগের ক্লাসের ফলের ভিত্তিতে সকল শিক্ষার্থীদের পাস দেয়ার দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে মেয়াদ বাড়িয়ে এটি আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছে। শীতে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই বলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না হলেও সংসদ টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইনে ক্লাস কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

পাঠকের মতামত: