কক্সবাজার, বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০২০

১৫ নভেম্বর নতুন কমিটি গঠনে হাটহাজারী মাদ্রাসায় কাউন্সিল

কী হচ্ছে হেফাজতের অভ্যন্তরে

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম::

দেশের অন্যতম বৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে কব্জায় নিতে মাঠে নেমেছে জামায়াত-বিএনপি। কওমি মতাদর্শীদের শীর্ষ এ সংগঠনের শীর্ষ পদে নিজেদের অনুসারী ও আশীর্বাদপুষ্ট নেতাদের আমির-মহাসচিব বানাতে চেষ্টা করছে তারা। আগামী ১৫ নভেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কাউন্সিলে শীর্ষ পদে নিজেদের পছন্দের লোক বসাতে বিএনপি-জামায়াতের তৎপরতার কথা উঠে এসেছে সরকারি একটি সংস্থার গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। এরই মধ্যে আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যু পরবর্তী আমির নির্বাচন ও নতুন কমিটি গঠনে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

১৫ নভেম্বর হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠনের জন্য হাটহাজারী মাদ্রাসায় কাউন্সিল ডাকা হয়েছে। ওই কাউন্সিলে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে আমির কিংবা মহাসচিব পদে যে কোনো একটিতে বসাতে চায় বিএনপি-জামায়াত। এ নিয়ে দুটি বিকল্প চিন্তা নিয়ে কাজ করছে তারা। তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীকে আমির এবং বর্তমান মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে মহাসচিব করার।

দ্বিতীয় পরিকল্পনায় রয়েছে বর্তমান মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির ও মাওলনা মামুনুল হককে মহাসচিব করার। মাওলানা মামুনুল হক প্রয়াত শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের ছেলে হলেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে জামায়াত সম্পৃক্ততার অভিযোগ।
হেফাজতে ইসলামের একাধিক সিনিয়র নেতাদের দাবি, গত কয়েক যুগ ধরে জামায়াত-শিবির হাটহাজারী তথা কওমি মাদ্রাসাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। ১৯৮৫ সালে একবার হামলাও চালানো হয়।

কিন্তু আল্লামা আহমদ শফীর দৃঢ়তার কারণে সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর তারা আবার হাটহাজারী মাদ্রাসা ও হেফাজতে ইসলাম নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টায় আছে। তারা হেফাজতে ইসলামের আগামী কাউন্সিলে তাদের লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে চায়। এ সম্পর্কিত সরকারি একটা গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিবেদনে বলা হয়, হেফাজতে ইসলামকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা কেন্দ্রিক করার চেষ্টা করছে বিএনপি-জামায়াত। একই সঙ্গে তাদের আশীর্বাদপুষ্টদের আমির কিংবা মহাসচিব করার পরিকল্পনা করছে।
তাদের এ ষড়যন্ত্র সংগঠনটিকে জামায়াতের হাতে তুলে দেওয়ার নামান্তর। জানা যায়, দেশের অন্যতম বৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম ও কওমি মতাদর্শীদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শগত মত পার্থক্য থাকলেও বেশ কয়েক বছর ধরে এ সংগঠনকে কব্জায় নিতে মাঠে নামে জামায়াতে ইসলামী। এ প্রক্রিয়ায় জামায়াতের সঙ্গী হয় তাদের রাজনৈতিক মাঠের সঙ্গী বিএনপি। জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির বছর দু-এক আগে থেকে হেফাজতে ইসলামের মূল কেন্দ্র দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় রাজনৈতিক কর্মকান্ড শুরু করে। হাটহাজারী মাদ্রাসায় ৭১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করে তারা। এরই মধ্যে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র শামীম সাঈদী, মাওলানা তারেক মনোয়ার, জামায়াতের সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী, শিবির নেতা সালাহউদ্দিন আইয়ুবীসহ জামায়াত-শিবির নেতারা হেফাজতে ইসলাম ও হাটহাজারী মাদ্রাসাকেন্দ্রিক তৎপরতা বৃদ্ধি করে। হেফাজতে ইসলামের আমির ও দেশের শীর্ষ কওমি আলেম আল্লামা আহমদ শফীর জানাজায় হেফাজতে ইসলামে জামায়াতের শক্ত অবস্থানের জানান দেয়। ওই দিন জানাজায় জামায়াত শিবিরের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের অর্ধশতাধিক নেতা অংশ নেন। এমনকি আল্লামা শফীর লাশ বহনকারী গাড়ি, খাটিয়া এবং জানাজার মাঠের মাইকের নিয়ন্ত্রণ ছিল জামায়াত-শিবির নেতাদের দখলে।

পাঠকের মতামত: