কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সিমকার্ড বিক্রয় সিন্ডিকেট সক্রিয়

সীমান্ত এলাকায় রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য সংরক্ষণে সরকার ২০১৮ সালে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যাপক
অভিযান চালিয়ে সিমকার্ড উদ্ধার ও ব্যবহারকারীদের ধরপাকড় চালিয়েছে। ২০২০ সালের শেষের দিকে আবারো একই কায়দায় সিমকার্ড বিক্রি নিয়ে সচেতন মহলের মাঝে মিশ্র
প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ক্যাম্পে দায়িত্বরত এপিবিএন
সদস্যরা ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে নুর মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ জুবায়ের
(৩২) কে সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে সিমকার্ড বিক্রি কালে আটক করে রোববার সকালে উখিয়া থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ্দ করেছে। পুলিশের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানাগেছে, ওই রোহিঙ্গা নাগরিক একটি ভূয়া কোড নম্বর ব্যবহার করে রেজিষ্ট্রেশন করা সিম বিক্রি করছিল। সে আরো জানায়, তার মতো অনেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ও ক্যাম্পে বিভিন্ন দোকানে সিমকার্ড অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে।
কুতুপালংয়ের প্রবীণ আ’লীগ নেতা ও সমাজকমর্ী নুরুল হক খান রোহিঙ্গাদের
সিমকার্ড ব্যবহার সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ভূয়া কোড নম্বর ব্যবহার করে যত্রতত্র
সিম ব্যবহার করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে এ
অবস্থার আরো অবনতি হতে পারে। যা নিয়ে স্থানীয়রা শংকিত। কথা প্রসঙ্গে কুতুপালংয়ের
আরেক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন, রাতের আধঁারে এক শ্রেণির রোহিঙ্গা
সন্ত্রাসী মুখে কালো কাপড় বেঁধে ক্যাম্পে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। পুলিশ তাদের দেখেও না
দেখার ভান করে থাকে। এসমস্ত কারণে স্থানীয়দের নিঘুর্ম রাত কাটাতে হচ্ছে।
উখিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক তহিদুল আলম তহিদ তার ব্যক্তিগত মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, রোহিঙ্গারা সিম ব্যবহার করুক তবে যে সিমের রেজিষ্ট্রেশন থাকতে হবে। যাতে রোহিঙ্গারা কোন অপরাধ কর্মকান্ড থেকে গাঁ ঢাকা দিতে না পারে। তিনি বলেন, বর্তমানে এক শ্রেণির রোহিঙ্গা এখন সিম বিক্রি পেশায় নেমে পড়েছে। তারা কিভাবে কোথা থেকে এসব সিম সংগ্রহ করেছে তার উত্তর কারো জানা নেই। তিনি বলেন, সরকার রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের নজর কেড়েছে। এমতাবস্থায় রোহিঙ্গারা সরকারের মহান উদারতাকে কাজে লাগিয়ে অনৈতিক কর্মকান্ডে নেমে পড়েছে। অভিজ্ঞ মহল বলছেন, বেকার, গরীব রোহিঙ্গারা বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত হয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্থিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। যার নেপথ্যে কাজ করছে ভূয়া সিমকার্ড। স্থানীয়রা রোহিঙ্গাদের ব্যবহৃত এসব
ভূয়া সিমকার্ড জব্দ করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পাঠকের মতামত: