কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১

উখিয়া-টেকনাফের হতদরিদ্রদের টেকসই উন্নয়নে কাজ করছে ইউনাইটেড পারপাস

এম ফেরদৌস, উখিয়া::

আইওম এর অর্থায়নে ইউনাইটেড পারপাস কর্তৃক বাস্তবায়ীত ইকরা (Improving Community resilience Through cooperative livelihood actions (ICRA) প্রকল্পের ফিল্ড পর্যায়ে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের প্রমাণ্যচিত্র তুলে ধরে সাংবাদিকদের নিয়ে ২দিন ব্যাপি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর অভিজাত হোটেল কক্সবাজার বীচ ওয়ে”তে দুই দিন ব্যাপি এ কর্মশালা সম্পন্ন হয়।

ইউনাইটেড পারপাস’ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক সুনীল জীবন চাকমার সভাপতিত্বে প্রকল্পের সহকারী শাহিনুর ইসলামের সঞ্চালনায় কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন, প্রকল্পের সার্বিক ব্যবস্থাপক আহসান নেওয়াজ, মনিটরিং স্পেশালিষ্ট হারুনুর রশিদ ও আয়েশা সিমা।

সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন, উখিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সাঈদ মোহাম্মদ আনোয়ার,বাংলাদেশ প্রতিদিনের টেকনাফ প্রতিনিধি আবদুস সালাম, আর টিভির প্রতিনিধি শাহিন শাহ, বিবিচি ও যায়যায় দিনের উখিয়া প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ, নয়াদিগন্তের উখিয়া প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির জুসান,দি ডেইলী স্টারের জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, কক্সবাজার প্রতিদিনের প্রকাশক মোহাম্মদ রিয়াদ,সকালের সময় ও কক্সবাজার প্রতিদিনের উখিয়া প্রতিনিধি এম ফেরদৌস ওয়াহিদ,জাগো নিউজ ও ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি সায়েদ আলমগীর, দি ডেইলী সানের জেলা প্রতিনিধি ওয়াহিদুর রহমান রুবেল,সমুদ্র কন্ঠের উখিয়া প্রতিনিধি ইব্রাহিম মোস্তফা, টিটিএনের বিশেষ প্রতিবেদক ইফতিয়াজ নুর নিশান,প্রমুখ।

এসময় উখিয়া টেকনাফের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের উদ্দ্যেশে এ প্রমাণচিত্র তুলে ধরে সুনীল চাকমা বলেন, প্রকল্পের উপকারভোগীদের মধ্যে উখিয়া উপজেলায় তিনটি ও টেকনাফ উপজেলায় চারটি মোট ৭ টি ইউনিয়নে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)র অর্থায়নে কক্সবাজারের উখিয়া এবং টেকনাফে ৩৭০০ হতদরিদ্র পরিবারের জীবিকায়নে কাজ করছে ইউনাইটেড পারপাস তার মধ্যে ৮৬ ভাগ নারী।২৭৫০ জনকে ব্যবসায় উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানে ১১২০ জনকে বিভিন্ন ট্রেডের উপর দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানসহ ৭৮৬ জন সুফলভোগীকে ব্যবসা শুরু করার জন্য শর্ত সাপেক্ষে ৩৫,০০০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়।গত জানুয়ারি থেকে ১১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার এই প্রকল্পে ৮০ শতাংশ উপকারভোগীদের স্থায়ী জীবন মানোন্নয়নে কর্মমূখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহযোগিতা করা হচ্ছে। অবশিষ্ট ২০ শতাংশ প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় খরচ করা হচ্ছে।

প্রদানকৃত অর্থ দিয়ে অটো রিক্সা, ফার্ণিচার, কম্পিউটার সার্ভিসিং, গরু, ছাগল পালন, ফেরির ব্যবসা, মৎস্য চাষ, ফুড প্রসেসিং, ছাগল পালন, মুদি দোকান, হস্তশিল্প, মোবাইল সার্ভিসিং, পোল্ট্রি পালন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, সেলাই ও পোষাক তৈরি সবজি চাষ করছে উপকারভোগীরা।

সরেজমিন পরিদর্শকরা জানান,উপকারভোগী রাজাপালং দরগাবিলের আয়েশা তার পরিবার চলতে অনেক হিমসিম খেতে হতো উপার্জনের কোন সোর্চ ছিল না,তার স্বামী কোন কাজকর্ম করতে না পারায় করোনাকালীন সময়ে ইউনাইটেড পারপাসের উদ্যোগে তাকে সাবলম্বি করে গড়ে তুলতে অল্প পুজি ৩৫ হাজার দিয়ে একটি ছোটখাটো মোদির দোকানের ব্যবস্থা করা হয়। এতে তার পরিবার জীবিকার্জন অনেকটা সহজলভ্য হয়ে পড়ে। এরকম অনেক উপকারভোগীর তথ্য তুলে ধরেন প্রমাণ্য চিত্রের মাধ্যমে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে বাস্তুচ্যুত হয়ে ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্টির মাঝে টেকসই জীবিকা উন্নয়নে কাজ করছে ইউনাইটেড পারপাস।

পাঠকের মতামত: