কক্সবাজার, বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

ইস্যু ছাড়াই হঠাৎ বেড়েছে টিস্যুর দাম

 

 

কারওয়ান বাজারের খাবারের দোকানদার হোসাইন তালুকদার। তিনি তার দোকানের ক্রেতাদের হাত মোছার জন্য টিস্যুও সরবরাহ করেন। কিন্তু এখন তার দোকানে ক্রেতাদের টিস্যু দিতে গেলে মৌখিক একটি ঘোষণাও দিয়ে দিচ্ছেন হরহামেশাই। বলছেন, টিস্যুর দাম বেড়েছে। বেশি টিস্যু ব্যবহার করা যাবে না। অথচ আগে চাইতেই ক্রেতাদের তিনি মুঠি মুঠি টিস্যু হাতে ধরিয়ে দিতেন। মুখটাও তার হাসি হাসি থাকত। এখন দৃশ্যটা পুরোই উল্টে গেছে।

হোসাইন বলছেন, টিস্যুর দাম প্রতি কার্টুনে বেড়েছে ৫০০ থেকে থেকে ৬০০ টাকা। বাড়তি এই দামের সঠিক কারণ তিনি জানেন না। না জানলেও তিনি শুনেছেন, টিস্যুর ওপর নাকি বাড়তি কর বসানো হয়েছে!

সম্প্রতি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সব ধরনের ব্যবহার্য টিস্যুর দাম আগের তুলনায় ১৭ থেকে ২০ শতাংশ বেড়েছে। আগে দাম বাড়লে ১ থেকে ২ টাকা বাড়ত। এখন লাফে এত টাকা বেড়ে যাওয়ার হেতু কি? চাইলেই কি দাম বাড়ানো যায়? জনমনে এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

হঠাৎ এমন দাম বৃদ্ধির কারণ খুঁজতে গেলে কথা হয় দেশের টিস্যু উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি বসুন্ধরা গ্রুপের এক কর্মকতার সাথে। তিনি বললেন, ‘এ বিষয় ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তই সর্বশেষ। ‘ তিনি এ বিষয়ে অর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

তবে কারওয়ান বাজারের বসুন্ধরা টিস্যুর পরিবেশক রহমত অ্যান্ড সন্সের বিক্রেতা মো. লিটন দ্য রিপোর্টকে বলেন, ২০২০ এর শুরুর দিকেই দাম বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা থাকলেও করোনার কারণে সে দাম আর বাড়ানো হয়নি। তাই চাহিদা বাড়তেই বাড়ানো হয়েছে টিস্যুর দাম। কারণ, হিসেবে জানানো হয়েছিল, টিস্যু তৈরির প্রধান কাচাঁমাল ভার্জিন পাল্প-এর দাম বাড়ানো হয়েছে। এটি এক ধরনের গাছের আঠাঁ যা থেকে উন্নত মানের টিস্যুগুলো তৈরি করা হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন দ্রব্যের আমদানি শুল্ক বাড়ানোকে টিস্যুর দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তবে বসুন্ধরার সাদা টিস্যুর দাম আগে ছিল ১৭ টাকা, এখন ২০ টাকা, গোল্ড টয়লেট টিস্যু আগে ছিল ২৫ টাকা এখন ৩০, ফেস টিস্যু ৬২ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭২ টাকা, ন্যাপকিন টিস্যু পাওয়া যেত ৫৫ টাকায় যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, কিচেন টিস্যুর দাম প্রতি প্যাকেট আগে ছিলো ৫৮ টাকা যা এখন ৬৮ টাকা হয়েছে।

সবার আগে বাড়ে বসুন্ধরা টিস্যুর দাম, এরপরেই তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অন্যান্য ব্রান্ডের দামগুলো। বসুন্ধরা টিস্যু পরিবেশক আরও জানলেন, ‘লিডিং কম্পানিগুলো দাম না বাড়ালে অন্যরা চাইলেও বাড়াতে পারে না। তাই বসুন্ধরার দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ছে অন্য টিস্যুর দামগুলো। নাহলে বাজারের দামের সাথে সামঞ্জস্য থাকবে না।’

ভোক্তা অধিদপ্তরের পরিচালক শামীম আল মামুন এ প্রসঙ্গে জানান, মুক্ত বাজারে দাম রেগুলেট সরাসরি করা যায় না। চাইলে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার বা সরকার কিছু করতে পারে না। তবে জনগণ চাইলে তাদের পণ্য বর্জ্যন করতে পারে।

বসুন্ধরার পাশাপাশি বাজারে ফ্রেশ, সোনালি, বাংলা, ফে, জননীসহ বেশ কিছু ব্র্যান্ডের টিস্যু বিক্রি হয়। এদের মধ্যে জননীর দাম বাড়ানো হলেও সোনালি, বাংলা ও ফে টিস্যুর দাম বাড়েনি।

এদের মধ্যে জননী টিস্যুর দাম বাড়লেও জননী টিস্যুর কারওয়ান বাজারের সরবরাহকারীরা বলেন, গত এক মাস ধরে তিন থেকে পাঁচ টাকা বাড়ানো হয়েছে তাদের টিস্যুতে। দাম বাড়ার কারণে প্রথম দিকে দেখা দিয়েছিল তাদের ক্রেতা সংকট।

কারওয়ান বাজারে মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ টিস্যুর পরিবেশক জামাল ট্রেডার্সের বিক্রয় প্রতিনিধি হারিছুর রহমান বলেন, ফ্রেশের হ্যান্ড টাওয়েলের দাম বাড়লেও অন্য সামগ্রির দাম একই আছে। তাই আগের তুলনায় তাদের পণ্যের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে।

বর্তমান সময়ে যেখানে বারবার বলা হচ্ছে বার বার হাত ধোয়া ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর কথা। গত ১১ তারিখ সকল ধরনের শপিংমল, অফিস ও খাবার দোকানসহ, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায় বেড়েছে টিস্যুর ব্যব্যহারও। দেশে কোভিডের এই ক্রান্তিলগ্নে সুযোগ বুঝে নিত্যপণ্যের মত একটি দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রির দাম বাড়ানো কতোটা নৈতিক— প্রশ্ন তুলেছেন এর ব্যবহারকারীরা।

পাঠকের মতামত: