কক্সবাজার, সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১

থার্মোমিটার দিয়েই হচ্ছে পরীক্ষা

করোনাভাইরাস ঠেকাতে প্রস্তুতি নেই চট্টগ্রাম বন্দরে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম::

‘করোনাভাইরাস’ আতঙ্কে দেশের সব বিমানবন্দরে সতকর্তা জারি করা হয়েছে, গঠিত হয়েছে স্পেশাল মেডিক্যাল টিম। বসানো হয়েছে থার্মাল স্ক্যানার কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে প্রতিদিন গড়ে ১০টি জাহাজ আসছে এরমধ্যে নিয়মিত চীন থেকে আসা জাহাজ থাকছে দুই থেকে তিনটি।

প্রতি জাহাজে ৩৫ থেকে ৪০ জন ক্যাপ্টেন-প্রকৌশলী থাকেন। তাদের অনেকেই জাহাজ থেকে নেমে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করছে। কিন্তু থার্মাল স্ক্যানার বা এই কোনো ধরনের মেডিক্যাল চেকআপ ছাড়াই তারা বন্দরে-শহরে ঢুকছে।
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে আসা জাহাজের নাবিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজটি করে থাকে বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। একইসাথে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে আসা যাত্রী-ক্যাপ্টেনদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজটিও করে থাকে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন এই বিভাগ। কিন্তু সেই কাজটি এখন পর্যন্ত হচ্ছে দায়সারাভাবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সমন্বয় বৈঠক করতে পারেনি।

জানতে চাইলে বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, গত সোমবার দুটি চীনা জাহাজ বন্দর জেটিতে ভিড়েছে। আজকে কোন চীনা জাহাজ জেটিতে ভিড়েনি।

করোনাভাইরাস চেক করার জন্য আমাদের কাছে বিশেষ যন্ত্র থার্মাল স্ক্যানার বা ইনফ্রায়াড স্ক্যানার নেই। এরপরও জাহাজের ক্যাপ্টেনের কাছ থেকে এই ধরনের সংক্রমিত রোগ আছে কিনা লিখিতভাবে নিই। লিখিত পাওয়ার পর নাবিকদের মধ্য থেকে আমরা র্যান্ডম স্যাম্পল করে পরীক্ষা করে দেখি। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের কোনো রোগীর সন্ধান মিলেনি।

যন্ত্র ছাড়া কিভাবে পরীক্ষা করছেন জানতে চাইলে মোতাহার হোসেন বলছেন, আপাতত আমরা থার্মোমিটার দিয়ে পরীক্ষা করছি এবং কোনো কিছু ধরা না পড়লে আমরা ক্লিয়ারেন্স সনদ দিচ্ছি।
চীন থেকে আসা নাবিক-প্রকৌশলীদের র্যান্ডম স্যাম্পল না করে সবাইকে শতভাগ পরীক্ষা না করে বন্দর জেটিতে নামতে না দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়ে মোতাহার হোসেন বলেন, সতর্কতার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ও ইমিগ্রেশন বিভাগকে মৌখিকভাবে বলেছি বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য। খুব শিগগিরই একটি সমন্বয় বৈঠক করব।

একাধিক শিপিং এজেন্ট কালের কণ্ঠকে বলছেন, স্বাস্থ্য বিভাগের অধীন পোর্ট হেলথ বিভাগ বন্দর জেটিতে আসা জাহাজের নাবিকদের নিয়মিতভাবেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সনদ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সেই কাজটি একেবারে দায়সারাভাবেই করে থাকেন। জাহাজে উঠে নামমাত্র দেখে ক্লিয়ারেন্স সনদ দেন। অনেক ক্ষেত্রে শিপিং এজেন্টরাই হেলথ বিভাগ অফিসারের কাছে গিয়েই সনদ নেন। কারণ এই সনদ ছাড়া জাহাজ বন্দর ছেড়ে যতে পারে না। ফলে নাবিক-প্রকৌশলীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বলতে যা বোঝায় তার ধারে-কাছেই নেই।

জানা গেছে, বন্দর স্বাস্থ্যবিভাগ শুধুমাত্র জেটিতে ভিড়া জাহাজের নাবিক-প্রকৌশলদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখেন। বন্দর জলসীমার ভিতরে আসা জাহাজে নাবিক-প্রকৌশলীদের স্বাস্থ্যপরীক্ষার সুযোগ নেই। এই কাজটি কেউ করে না।

ব্যবহারকারীরা বলছেন, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের জলসীমায় প্রচুর পণ্যবাহী জাহাজ আসছে। এসব জাহাজ থেকে পণ্য আরেক জাহাজে নামিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। বহির্নোঙরে পণ্য স্থানান্তর কাজ করে থাকে দেশিয় শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটররা। ফলে চীন থেকে আসা জাহাজের নাবিকের সাথে দেশীয় জাহাজে হ্যান্ডলিং কর্মীদের সংষ্পর্শে আসছেন। পণ্য জাহাজ থেকে নামানোর পর দেশিয় কর্মীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছেন। ফলে তাদের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর শঙ্কা রয়েছে। কারণ করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে।

করোনাভাইরাস সতকর্তা নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রস্তুতি কী জানতে চাইলে বন্দর সচিব ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, বন্দরের সদস্য প্রশাসনের উদ্যোগে আজকে একটি আলোচনা হয়েছে। সেখানে করোনাভাইরাস ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যাত্রীদের চেক করতে ঢাকা শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার বসানো হলেও চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে বসেনি এই যন্ত্র।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মাহমুদ আকতার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, এখনো থার্মাল স্ক্যানার বসেনি। দ্রুত বসানো হবে। চীন থেকে কোন ফ্লাইট সরাসরি চট্টগ্রাম আসে না। ঢাকা বিমানবন্দর হয়ে চট্টগ্রাম আসলে আগেই ঢাকা বিমানবন্দরে স্ক্যান হয়ে ধরা পড়বে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, কাতার, মাসকাট থেকে কোন যাত্রী চীন, কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের অধিবাসী থাকলে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে বলা আছে তাদের যাতে মেডিক্যাল চেকআপ করা হয়। আমরা সেভাবে কাজ করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ শনাক্ত হয়নি।

পাঠকের মতামত: