কক্সবাজার, বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১

কক্সবাজারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ

শাহী কামরান::

কক্সবাজারের জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক সমুদ্র কণ্ঠের সম্পাদক মঈনুল হাসান পলাশের সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অসৌজন্য মুলক আচরণ ও পেশাগত কাজে বাধা দেয়া সহ সাংবাদিকদের বিষয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে।
অধ্যাপক মঈনুল হাসান পলাশ তার ফেসবুক ওয়ালে আজ ৪ এপ্রিল ভারাক্রান্ত মনে ঘটনার বর্ণনা করেন। তার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করার পর কক্সবাজার সাংবাদিক মহলে শুরু হয় প্রতিবাদ। ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন সাধারন জনগনও।
পাঠকের সুবিধার্থে নিম্নে ঘটনার বর্ণনা ও কয়েকটা মন্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

আজ দুপুরে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হলাম।
দুপুর ১টা ৫ মিনিটে ঝাউতলার রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড এর সামনে জেলা প্রশাসনের টহল টিম আমাকে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসবার সময় আটকালো।

আমার মোটরসাইকেলের সামনে হেডলাইটের কাভারে দৈনিক সমুদ্রকন্ঠের স্টিকার লাগানো ছিলো।

তারপরও দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিজের পরিচয় দিলাম,আমি একজন সাংবাদিক ও পত্রিকার সম্পাদক।

কিন্তু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাতে কোনো পাত্তাই দিলেন না। আমার মোটরসাইকেলের সাথে একটা বাজারের ব্যাগও ছিলো। তিনি শাসালেন ব্যাগ নিয়ে ঘুরছি কেনো।

এনিয়ে তার সাথে তর্ক করলাম। এক পর্যায়ে তার সহযোগী কর্মকর্তারা, পুলিশের সিপাই, গাড়ির ড্রাইভাররা আমাকে ঘিরে ধরলো।
আমি বললাম আমার সাথে বস্তা থাকুক, সাংবাদিক/সম্পাদক হিসেবে তো বাইরে পর্যবেক্ষণ করতে পারি। কোনো সাংবাদিকদের বিচরণে তো সরকার কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করে নি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অসৌজন্যমূলকভাবে বললেন আপনার মতো সম্পাদক অলিতে গলিতে আছে।
আমি তখন বিষয়টি জানাতে ১টা ১০ মিনিটে কক্সবাজারের মাননীয় জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ কামাল হোসেনের সরকারি মোবাইল নাম্বারে দু’বার ফোন করে তার ফোন বিজি পেলাম।
ইতিমধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ীর চালক এসে আমার মোটর সাইকেলের চাবি কেড়ে নিয়ে গেলো। পাশ থেকে একজন বললো,একে ধরে অফিসে নিয়ে আসেন!

সাথে সাথেই এক পুলিশ বললো,একে হ্যান্ডকাফ লাগাও….
আমি একা। চারপাশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট,তার সহযোগী, হাফ ডজন পুলিশ, ২০/২২ টা প্রশাসনের গাড়ি….
অবশেষে হতাশ হয়ে বললাম, আমি কি যেতে পারবো?

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বললেন, অনুরোধ করে বলেন।
আমি বললাম, চাবি দিতে বলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বললেন,দিতে বলেন মানে কি? অনুরোধ করেন!

আমি অনুরোধ করলাম তার ভাষায়। তিনি দয়াপরবশ হয়ে চাবি ফেরত দিতে বললেন।
এখন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কাছে আমার প্রশ্ন,একটি পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে এই পরিস্থিতিতে বাইরে পেশাগতভাবে বিচরণ করার ওপর বিধিনিষেধ আছে কিনা?
আমি পেশাগত পরিচয় দিলে,আমার সাথে কোনো ব্যাগ বা অন্যকিছু রাখার ওপর কোনো বিধিনিষেধ আছে কি না?

উক্ত পোস্টে ২৩০ জনের মন্তব্য জমা পড়েছে বেশীরভাগই নিন্দার। তার মধ্যে কয়েকটা হুবহু তুলে ধরা হল।
ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন কক্সবাজার প্রতিনিধি তৌফিক লিপু লিখেছেন,আমাকেও আটকালো সন্ধ্যার আগে। কাঁধে ফুল বিহীন কনস্টেবলের যে ক্ষমতা দেখলাম। বাপরে বাপ। করোনার চেয়ে ভয়ংকর।

সাংবাদিক রাসেল চৌধুরী লিখেছেন, কক্সবাজারে নাজিম উদ্দিন ( সাবেক এসিল্যান্ড কক্সবাজার) কর্মজীবনে শুরুতে এ রকমই দাম্ভিক ছিলেন, তার পরিণতি আমরা দেখেছি, ইনিও দেখছি নাজিম উদ্দিনের উত্তরসূরি। তার মনে রাখা উচিত, সাগরপাড়ের মানুষের অভিশাপ বড় নির্মম হয়। দিন শেষে ইজ্জত নিয়ে কেউ ফিরতে পারেন না। বাইরে গিয়েও ইজ্জত পান না।

সাংবাদিক ইমাম খাইর লিখেছেন, ক্ষোভের সাথে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
সংবাদকর্মী এমনকি সম্পাদক পরিচয় পাওয়ার পরও এমন আচরণ কোনোভাবেই মার্জনীয় নয়।
প্রশাসনের সুনাম ক্ষুন্ন করতে এরকম কয়েকজন কর্মকর্তা যথেষ্ট।

সাংবাদিক সৌয়েব সাঈদ লিখেছেন, রামুর সাংবাদিকবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণের জন্য কথিত ম্যাজিষ্ট্রেট এর বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে।
অনলাইন এক্টিবিস্ট এরফান হোসাইন লিখেছেন, দুঃখজনক, মনে হয় ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব সম্পাদকের অর্থটা বুঝেনি এছাড়া নব্য নাজিমের ভুমিকা রাখতে চেয়েছিলো।
সাংবাদিকদের এভাবে হেনস্থা করার জন্যে তীব্র নিন্দা জানাই।

শনিবার বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত হোসেন এর নেতৃত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা শহরের ঝাউতলা জায়গায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করাকালীন দৈনিক সমুদ্র কণ্ঠের সম্পাদক পলাশের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পেশাগত দায়িত্বপালনে সেখানে গেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকষ্মিক ভাবে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। সাংবাদিকদের বিষয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্যসহ তাকে নানাভাবে হেনস্তা করেন।

এদিকে সমুদ্র কণ্ঠের সম্পাদক মঈনুল হাসানের পলাশের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে এবং সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমুলক আচরণকারী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার অপসারণ দাবি করা হয়েছে।

এসব বিষয় নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরফাত হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে তার বক্তব্য উপস্থাপন করবেন বলে জানান।

পাঠকের মতামত: