কক্সবাজার, শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

১৩১ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাটিং করে ১৩১ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। নির্ধারিত ১০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩১ রান করে স্বাগতিক দল।

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩১/৭ ( মাহেদী ৭*)

বোল্ড শামীম, প্রথম উইকেটের দেখা পেলেন স্টার্ক

শামীম হোসেন পাটোয়ারীকে বোল্ড করে প্রথম উইকেটের দেখা পেলেন মিচেল স্টার্ক। এই গতি তারকার বল বুঝতেই পারেননি দলের এই নবাগত সদস্য; সরাসরি ভেঙে দেয় লেগ স্ট্যাম্প। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩ বলে ৪ রান।

৩৬ রান করে বোল্ড সাকিব

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ ৩৬ রান করে আউট হলেন সাকিব সাল হাসান। হ্যাজলউডের বলে বোল্ড হন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। অজি পেসারের স্লোয়ার বুঝতে পারেননি সাকিব; বল ব্যাটে লেগে স্ট্যাম্প ভেঙে দেয়। এর আগে সৌম্য সরকারও এভাবে আউট হন। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৩টি চারে। সৌম্য শুরুতেঁ আউট হওয়ার পর ক্রিজে এসেছিলে, এরপর থেকে একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলছিলেন দারুণ। কিন্তু ইনিংস শেষ করে আসতে পারেননি।

এবার ফিরলেন নুরুল

এবার আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরলেন নুরুল হাসান সোহান। তার ব্যাট থেকে আসে ৪ বলে ৩ রান। অ্যান্ড্রু টাইয়ের বলে পয়েন্ট খেলতে যেয়ে ব্যাটে-বলে ঠিকমতো লাগাতে পারেননি; মিচেল মার্শের অসাধারণ ক্যাচে ফিরলেন সাজঘরে। এদিকে এক প্রান্ত আগলে রেখেছেন সাকিব আল হাসান। তিনি ব্যাটিংয়ে আসার পর একে একে ফেরেন নাঈম, মাহমুদউল্লাহ ও নুরুল।

ছক্কা মেরে পরের বলেই আউট মাহমুদউল্লাহ

হ্যানরিকসের লেন্থ বলকে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ারে আছড়ে ফেললেন গ্যালারিতে। নিয়মঅনুযায়ী এলো আরেকটি বল। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ বেশিক্ষণ স্বস্তি দিতে পারেননি; পরের বল আকাশে তুলে দিয়েছিলে, প্রথমে মনে হয়ছে বল পড়ছে নো ম্যানস ল্যান্ডে। কিন্তু হ্যাজলউড পিছে দৌড়ে দারুণ ডাইভে বল তালুবন্দি করেন। ২০ বলে ১টি ছয়ে ২০ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

সাকিব-মাহমুদউল্লাহর দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ

দুর্দান্ত খেললেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি মোহাম্মদ নাঈম। অ্যাডাম জাম্পার ঘূর্ণিতে ২৯ বলে ৩০ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাজঘরে। তার ইনিংসে চারের মার ছিল ২টি, ছয়ের মারও ছিল ২টি।  সপ্তম ওভারের শেষ বলে সুইপ করতে চেয়েছিলেন; কিন্তু বল নাঈমের ব্যাট মিস করে নীচ  দিয়ে আঘাত হানে সরাসরি মিডল স্ট্যাম্পে।  ক্রিজে এসেছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

জাম্পার ঘূর্ণিতে বোল্ড নাঈম

ওপেনিংয়ে দারুণ শুরু করেছিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। কিন্তু ইনিংস ৩০ রানের বেশি লম্বা করতে পারেননি। তার আগেই আউট হয়ে ফেরেন সৌম্য। নাঈম ড্রেসিংরুমে ফিরলে খেলার হাল ধরেন ক্রিজে থাকা সাকিব আল হাসান ও নতুন ব্যাটসম্যান মাহমুউল্লাহ রিয়াদ। দুজনের তৃতীয় উইকেটের জুটি থেকে আসে ২৫ বলে ২৫ রান। ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে ১০ ওভার, বাংলাদেশকে লড়াকু টার্গেট ছুঁড়ে দিতে হলে এখন থেকে হাত খুলে খেলা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

জীবন পেলেন মাহমুদউল্লাহ

৯ ওভারের চতুর্থ বলে ৫ রানের সময় অ্যাস্টন অ্যাগারের বলে অ্যাস্টন টার্নারের হাতে জীবন পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আউটসাইড অফের বল ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক; ব্যাটে-বলে ঠিক মতো না হওয়ায় চলে যায় প্রথম স্লিপেল কিন্তু টার্নার ব্যর্থ হন বল তালুবন্দি করতে। উলটো ২ রান আসে এই বল থেকে।

নতুন বল আনালেন নাঈম

অস্ট্রেলিয়ার শর্ত ছিল বল গ্যালারিতে গেলেই দিতে হবে নতুন বল। তাদের শর্ত মতে ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই এলো নতুন বল। স্টার্ককে ফ্লিক করে ডিপ মিড উইকেট অঞ্চল দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন গ্যালারিতে। এর আগে এই স্টার্ককে ছয় মেরেই ইনিংসের খাতা খোলেন এই বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান। সঙ্গে সঙ্গেই এলো নতুন বল।

২ রানে বোল্ড হয়ে সাজঘরে সৌম্য

৯ বলে মাত্র ২ রান করে জস হ্যাজলউডের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য। হ্যাজলউডের বলে একটু সরে জায়গা করে নিয়ে কাট করতে গিয়েছিলেন সৌম্য। কিন্তু দক্ষ হ্যাজলউড বুঝতে পেরে জায়গা নিতে দেননি; থার্ডম্যান অঞ্চল দিয়ে বল পাঠাতে চাইলেও বল লাগে মিডল স্ট্যাম্পে।

স্টার্ককে ছয় মেরে নাঈমের শুভসূচনা

মিচেল স্টার্ক গতির ঝড় তুলবেন এটা আগে থেকেই জানা ছিল। প্রথম বলটিই করেছিলেন ১৪৩ কিলোমিটার গতিবেগে! নাঈম ব্যাট চালিয়েছিলেন কিন্তু বল ক্রস করে চলে যায় উইকেটরক্ষকের হাতে। পরের বলেই মিড উইকেট অঞ্চল দিয়ে হাওয়ায় ভাসিয়ে ছয়ে পরিণত করলেন নাঈম। বাংলাদেশের রানের শুভসূচনা হলো ৬ দিয়ে। পরের চার বল অবশ্য কোনো রান আসেনি।

তৃতীয় ওভারেই জাম্পা

স্টার্ক-হ্যাজলউড অস্ট্রেলিয়াকে দারুণ শুরু এনে দেওয়ার পরও তৃতীয় ওভারে অ্যাডাম জাম্পাকে নিয়ে আসে অস্ট্রেলিয়া। ঢাকার উইকেট যে স্পিনে বাড়তি সুবিধা দেবে এটা অজানা জয় অজিদের; তাইতো দুই ওভার না যেতেই এই লেগস্পিনারকে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন অজি অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড।

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে যারা

অবশেষে মাঠে গড়াচ্ছে বহুল আলোচিত-সমালোচিত আর শর্তের বেড়াজালে ঘেরা বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় খেলাটি শুরু হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার নানা শর্ত আর আবদার মেনে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। টসের মাধ্যমে শুরু হয়ে গেল আনুষ্ঠানিকতা। সোমবার (৩ আগস্ট) টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

টস জিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড জানান, ‘মিরপুরের এই কন্ডিশনের সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ার জন্যই বোলিং বেছে নিয়েছেন তারা। এই সিরিজকে দলের অনেক তরুণ ক্রিকেটার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে নিজের জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেন, এই ম্যাচে আমাদের প্রথম লক্ষ্যই হলো বড় স্কোর গড়া।

সিরিজে দলের সিনিয়র দুই ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবালের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে মাহমুদউল্লাহ জানান, তরুণ ক্রিকেটারদের সামনে এই সিরিজে নিজেদের মেলে ধরার ভালো একটা সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ একাদশ: বাংলাদেশ একাদশ সাজিয়েছে দুই পেসার নিয়ে ও তিন স্পিনার নিয়ে। পেসে মোস্তাফিজুর রহমান-শরিফুল ইসলামের সঙ্গে স্পিনে আছেন নাসুম আহমেদ, শেখ মাহেদী ও সাকিব আল হাসান।

সৌম্য সরকার, নাঈম শেখ, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), নুরুল হাসান সোহান, আফিফ হোসেন, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ: তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছেন সফরকারী অধিনায়ক ওয়েড। পেস আক্রমণে থাকছেন মিচেল স্টার্ক,  অ্যান্ড্রু টাই, জস হ্যাজেলউড। এ ছাড়াও স্পিনে হাত ঘোরাবেন অ্যাডাম জাম্পা ও অ্যাস্টন অ্যাগার।

অ্যালেক্স ক্যারি, জশ ফিলিপে, মিচেল মার্শ, মোয়াসেস হেনরিকস, ম্যাথু ওয়েড (অধিনায়ক), অ্যাস্টন টার্নার, অ্যাস্টন অ্যাগার, মিচেল স্টার্ক, অ্যান্ড্রু টাই, জস হ্যাজেলউড ও অ্যাডাম জাম্পা।

দেখা যাবে তিন চ্যানেলে

দেশের তিনটি চ্যানেলে খেলাগুলো দেখানো হবে। একমাত্র ক্রীড়াভিত্তিক চ্যানেল টি-স্পোর্টস, গাজী টিভি ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি খেলা দেখা যাবে। আর অনলাইনে খেলা দেখা যাবে র্যাবিটহোলস্পোর্টসে।

প্রথম জয়ের হাতছানি

২০০৫ সালে ওয়ানডে, ২০১৭ সালে টেস্ট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এবার  টি-টোয়েন্টিতে জয়ের সেরা সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। এর আগে চারটি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল; বিশ্বকাপের আসরে সবগুলো ম্যাচেই হেরেছিল লাল সবুজের দল।

নানা শর্তের বেড়াজাল

সাতদিনে পাঁচ ম্যাচ, এক ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন, সিরিজ সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে ১০ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন, পাঁচ তারকা পুরো হোটেল বুকিং করা, তিনদিনের বিরতিতে কোভিড পরীক্ষা, দেশে আসার পর বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে মুখোমুখি না হওয়ার বিশেষ সুবিধা নেওয়া, মাঠে থাকতে পারবে না কোনো ক্যামেরা ক্রু, গ্যালারিতে বল গেলেই পরিবর্তন ও ড্রেসিংরুমে খাবার না থাকাসহ অনেক শর্ত দিয়ে রেখেছিল অস্ট্রেলিয়া। সবকিছুই মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ

এর আগে বাংলাদেশ ৩২টি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেললেও কখনো চারটির বেশি ম্যাচ খেলতে পারেনি। সেটাও আবার খেলেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ বাংলাদেশের কাছে বিরাট কিছু। এর ওপরে দুই দলের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করেছে। এর আগে চারটি টি-টোয়েন্টি খেলেছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে।

পাঠকের মতামত: