কক্সবাজার, রোববার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

আগাম সবজি চাষে কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রা ৭ হাজার ৭’শ হেক্টর।

শীতকালীন সবজি চাষাবাদের জন্য বিখ্যাত জেলা কক্সবাজার। শীত মৌসুমে জেলায় উৎপাদিত শাক-সবজির বিশাল একটি অংশ চাষাবাদ হয় এ অঞ্চলে। বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাতের শীতকালীন সবজির আবাদ করে লাভবান হয় এখানকার হাজার হাজার কৃষক। তাই শীতকালীন আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেন এবং লাভবান হবার স্বপ্ন দেখছেন এই এলাকার কৃষকরা। চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, টেকনাফসহ ৮ উপজেলার কৃষকরা বীজ বপন ও আগাম চাষ হওয়া সবজি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী আশিষ কুমার জানান, ‘যেকোনো সবজি যদি মৌসুমের শুরুতে বাজারে তোলা যায়, তবে এর দাম বেশি পাওয়া যায়। জেলায় শীতকালীন সবজি’র (আগাম) বাম্পার ফলন আশা করা যাচ্ছে। সিম, বরবটি, ফুল কপি, বাঁধাকপি, ঢেঁড়স তিত করলা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, চিচিঙ্গা, পটল, আলু, মুলা, পালং শাক, বেগুন, গাজরসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজির আবাদ হয়েছে। কিছু এলাকায় ১০ শতাংশ ফসল কাটা শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। সদর উপজেলার পিএম খালী, ঝিলংজা, বাঁকখালী এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ হয়। এখান থেকে প্রচুর পরিমাণ সবজি স্থানীয়ভাবে চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়’।

এবারে রবি মৌসুমে সবজির আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ হাজার ৭০০ হেক্টর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, গত বছর জেলায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে প্রচুর পরিমাণে শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছিল। এসব সবজি বিক্রি করে কৃষকরা ব্যাপক লাভবান হয়েছিলেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেবে প্রায় ১১ কোটি টাকা। এ কারণে এ বছর শীত শুরুর আগেই বিভিন্ন প্রজাতির শীতকালীন সবজি চাষ শুরু হয়েছে। কৃষকরা কোথাও জমিতে সবজির চারা বপন করছেন। কোথাও আবার নতুন গাছে আসা সবজির পরিচর্যা করছেন। কিছু জায়গায় কিছু সবজি আগাম কাটা হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সবজির দাম বেশি। ভালো দাম পাওয়ায় শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকের আগ্রহ বেশি।
কৃষকরা জানান, শীতকালীন সবজির চাহিদা বেশি। তবে মওসুমের শুরুর দিকে সবজির দাম ভালো পাওয়া যায়। দামও মোটামুটি ভালো। এ কারণে তারা শীত শুরু হওয়ার আগেই শীতকালীন সবজির আবাদ শুরু করে দিয়েছেন।
চকরিয়া, রামু, খুরুশকুল এলাকার একাধিক সবজি চাষি বলেন, সবজি চাষে অনেকের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। বহু পরিবার এখন স্বাবলম্বী। তাদের সংসারে এসেছে স্বচ্ছলতা। উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসা বানিজ্য গড়ে তোলেন। এদের অনেকের ছেলে সন্তানরা সৌদিআরব, দুবাই, সাউথ আফ্রিকা, কাতার, মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশে টাকা রোজগারের উদ্দেশ্যে গেছেন।
কৃষকরা বলেন, শাক-সবজি বিক্রির জন্য এখন হাটবাজারে যেতে হয় না। সবজি ক্ষেত থেকেই পাইকাররা ন্যায্য দামে কিনে নিয়ে যান। দামও ভালো পাওয়া যায়। এখানকার ‘বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি’ চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: কবির হেসেন বলেন, জেলায় এবার আগাম শীতকালীন সবজি চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। রবি মৌসুমে ৬ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে কৃষির আবাদ হয়েছে। উপজেলায় শাক-সবজির আবাদ বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও কৃষি প্রণোদনা ও প্রযুক্তি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে কৃষি বিভাগ। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মওসুমে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মধ্যে দুটি ঘুর্ণিঝড়ে জেলার লাখো কৃষকের ১৫০ কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ঘুর্নিঝড়ে ‘মোখায় ‘৬৬ হাজার কৃষক ১১১ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছিল। পরে ঘুর্নিঝড়ে হামুনে ১১ হাজার কৃষকের ৫০ কোটি টাকার ফসলী জমি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।

পাঠকের মতামত: