কক্সবাজার, শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২

উখিয়ায় ব্যস্ত কামাররা

পুড়ছে কয়লা, জ্বলছে লোহা। পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে উখিয়া উপজেলার প্রায় সকল হাট-বাজারেই ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কামার পল্লীর শ্রমিকরা। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে রাত অবধি চলছে তাদের রকমারি কর্মযজ্ঞ। তাদের লোহা হাতুড়ির টুং-টাং শব্দে মুখরিত। হাতুড়ির আঘাতে তৈরি হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনে কাজের উপযুক্ত সামগ্রী, দা, বটি, চাকু, কুড়াল, ছুরি, চাপাতিসহ ধারালো সব যন্ত্রপাতি।

সারা বছর কাজ সীমিত থাকলেও মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহৎ ঈদ উৎসব কোরবানিকে সামনে রেখে ঈদের এ সময়টাতে বেড়ে যায় তাদের কর্মব্যস্ততা।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, উখিয়া সদর দারোগা বাজার, কোটবাজার, মরিচ্যা বাজার,বালুখালী বাজার পালংখালী বাজার, থাইং খালী বাজার সহ প্রত্যান্তঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন কামারের দোকানে গ্রাহকের আনাগোনা বেড়েছে। টুংটাং শব্দে সরগরম হয়ে উঠেছে দোকানগুলো। খাওয়া-পরা ভুলে গিয়ে অবিরাম কাজ করছেন তারা। শান দেওয়া হচ্ছে লোহার তৈরি পুরাতন সরঞ্জাম গুলোতে। তৈরিকৃত এসব নতুন দা, ছুরি, বটি দোকানের সামনে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রেখেছেন আবার বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে। অপরদিকে বাড়িঘরে পড়ে থাকা দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত (ভোতা) দা, ছুরি, বটি কোরবান উপলক্ষে সানাই দিতে মানুষ নিয়ে আসছে কামারের দোকান গুলোতে। প্রতি পিছ চাকু ১০০-২৫০ টাকা, দা ৪০০-৬০০ টাকা, ৫০০ টাকা কেজি দরে চাপাতি, জবাই ছুরি ৮০০-১২০০টাকা এবং বটি ৩০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকাচ্ছে দোকানিরা। এছাড়াও পুরনো সকল যন্ত্রপাতি শান দিতে গুনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত।

কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ শিল্পের প্রধান উপকরণ লোহা, ইস্পাত ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় কামাররা এখন বিড়ম্বনায় পড়েছেন। বর্ষাকালীন বৃষ্টির কারণে লোহা পুড়ানোর প্রধান উপাদান কয়লার সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে বলেও জানান তারা।

উখিয়া হাটের কামার মনোজ কর্মকার বলেন, কোরবানির ঈদ এখনও প্রায় ৮ দিন বাকী। এখন আমরা কোরবানিতে ব্যবহৃত চাকু, ছুরি, চাপাতি ইত্যাদি তৈরি করে রাখতেছি। বেচাকেনা শুরু হয়নি। ঈদের ৪/৫দিন পূর্ব থেকে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হবে।

মরিচ্যা বাজারের অজিদ কর্মকার জানান, কোরবানের ঈদকে সামনে রেখে গ্রাহকের অর্ডার সামাল দিতে ইতিমধ্যে আমরা দোকানে বাড়তি কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছি।

কোরবানির আয়ে আমাদের সারাবছর চলতে হয় বিধায় গ্রাহকের চাপ সামাল দিতে সবধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ইতিমধ্যে আমাদের পরিচিত কিছু গ্রাহক দা, বটি, ছুরি বানানোর অর্ডার দিয়ে গেছে এবং শাণ দিতে অর্ডার পেয়েছি। পাশাপাশি নতুন বটি, ছুরি তৈরি করছি।

বিশেষ করে কোরবানের ২/১ দিন আগে গ্রাহকের আনাগোনা বেড়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, আশা করি গত ঈদের চেয়ে এবার ঈদে বিক্রি বেশি হবে। দা, বঁটি, ছুরি ও চাইনিজ কুড়াল এগুলো ঈদ এলে বেশি বিক্রি হয়। তবে ঈদের তিন থেকে চার দিন আগে বেচাকেনা অনেক বেশি হয়। এখন একটু কম বিক্রি হচ্ছে, কারণ এখন শুধু অর্ডার আসে কয়েকদিন পর ডেলিভারি দেয়া শুরু করলেই বিক্রি বেড়ে যাবে। তবে এখন বেশি বিক্রি হচ্ছে বঁটি।

দা-বঁটি কিনতে আসা কোটবাজার টমটম মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি ছলিম উল্লাহ বাহাদুর বলেন,”আসলে ঈদ যত কাছাকাছি চলে আসবে কামারের দোকানে ভীড় তত বেড়ে যাবে আর তখন কামাররা যন্ত্রপাতি ভালোভাবে না বানিয়ে কোনোমতে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয়। তাই একটু আগেই এসেছি, বসে থেকে ভালোভাবে বানিয়ে নেয়ার জন্য।”

আলাউদ্দিন ও রাপী নামের দুজন ক্রেতা বলেন, ‘ঈদের আর কয়েকদিন বাকি। তাই আগে থেকেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কিনে রাখছি।’ আরেক ক্রেতা আলী আহমদ বলেন, ‘পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি পুরাতনগুলোতে শান দিতে নিয়ে এসেছি।’

এ বিষয়ে কোটবাজার দোকান মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আবু ছিদ্দিক সওদাগর বলেন, ‘কেউ যাতে পণ্য অধিক দামে বিক্রি করতে না পারেন এবং কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি।’

পাঠকের মতামত: