কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১

উখিয়ায় রাতের আঁধারে দোকান দখল!

মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও জয়নাল আবেদীন দুজনই একে অপরের প্রতিবেশী দোকানদার। একজনের সারের ডিলার ব্যবসা অন্যজনের হার্ডওয়্যারের। উভয়ের বাড়ি হলদিয়াপালং ইউনিয়নে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে দোকানের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। কিন্তু চলমান বিরোধের কোনো নিষ্পত্তিতে আসতে পারেনি দুই ব্যবসায়ী।

এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিকবার ঘটনাও ঘটেছে। একে অপরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করেছেন। তবে মামলা ও নিষেধাজ্ঞা এনেও কোনো সমাধান মেলেনি। একাধিকবার স্থানীয় সালিশ বৈঠকেও কাজ হয়নি।

তারই ধারাবাহিকতায় এবার দোকান দখল, টাকা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চুরি করা হয়েছে বলে হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী জয়নালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন সার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম।

বিসিআইসি সারের ডিলার নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমি মাদারীপুর থেকে এসে ১৯৭৮ সালে মরিচ্যা বাজারে ব্যবসা ব্যবসা শুরু করি এবং সেই সুবাদে স্থানীয় আশু আলীর কাছ থেকে ২০১৫ সালের আগষ্টে ২২ কড়া জমি ক্রয় করে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষে মেসার্স নুরুল ইসলাম নামে বিসিআইসি সারের ডিলার নেওয়ায় ১৫ কড়া জমিতে একটি সেমিপাকা দোকানঘর তৈরি করি এবং পিছনের অংশে গুদাম করে ব্যবসা শুরু করি। কিন্তু কিছুদিন যেতেই স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা জয়নাল আমার কেনা জায়গা তার দাবী করে হুমকিধামকি দেওয়া শুরু করে এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করে এবং বিভিন্নসময় দোকানের মালামাল নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিভিন্ন কৌশলও অবলম্বন করে আমার ক্ষতি করেছে।

পরবর্তীতে তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমি বিজ্ঞ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে ১৪৪ ধারায় মামলা করলে আদালত এতে নিষেধাজ্ঞাদেশ দিলে সে আরও বেশী ক্ষিপ্ত হয়ে যায়।

তাই গত, ১৮ অক্টোবর সোমবার ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে অস্ত্রসহ তার দলবল নিয়ে আমার দোকানের পিছনের দেয়াল ভেঙ্গে গুদামে রাখা মালামাল সরিয়ে তার হার্ডওয়্যারের মালামাল রেখে দখল করে ফেলে এবং গুদামের কিছু মালামাল অন্যত্র সরিয়ে ফেলে এবং বাকী কিছু সার নষ্ট হয়ে যাওয়ার জন্য দোকানের সামনে বিচ্ছিন্ন ভাবে রাখে ও দোকানের ক্যাশ থেকে নগদ টাকা এবং প্রয়োজনীয় দলীল সরিয়ে ফেলে। এতে আমার ক্যাশ থেকে নগদ ৮ লক্ষ টাকা চুরি এবং ২ লক্ষ টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে।

পরবর্তীতে আমি নিরুপায় হয়ে থানার আশ্রয় নিলে থানা থেকে একদল পুলিশ এসে মালামাল দোকানে রাখার সহযোগিতা করে এবং বিষয়টি মীমাংসার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) নিকট হস্তান্তর করেন।

তিনি আরও বলেন, জয়নাল স্থানীয় প্রভাবশালী লোক এবং শ্রমিক নেতা হওয়ায় তার কাছে আমি নিরুপায়। বিভিন্নসময় তার হুমকিতে পরিবার নিয়ে শংকায় দিন কাটাচ্ছি। তাই সৃষ্ট এ সমস্যা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সে যদি কাগজে-কলমে আমার কাছ থেকে জায়গা পেয়ে থাকে আমি দিয়ে দিতেও রাজি।

অন্যদিকে, জয়নালের আবেদীন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে বলেন, নুরুল ইসলাম সবকিছু মিথ্যা মনগড়া কাহিনী সাজিয়ে আমার সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সে নিজেই আমার জায়গা ভোগদখল করে আসছে। যার জন্য আমিও তার বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারায় মামলা করলে বিজ্ঞ আদালত নিষেধাজ্ঞাদেশ দেয় কিন্তু সে আইনের আদেশকে না মেনে উল্টো দোকানের সাজসজ্জার কাজ চলমান রেখেছে। তাই প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে আকুল আবেদন, দীর্ঘদিন ধরে সৃষ্ট এ সমস্যার সুরাহা করে প্রকৃত মালিককে তার প্রাপ্য সম্পদ বুঝিয়ে দেওয়া জন্য আবেদন জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা বিরোধ নিয়ে পক্ষদ্বয়ের সাথে আলাপ হয়েছে। তারা উভয়পক্ষ বৈঠকের ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করেছে। এই বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীদের মাঝে জমির প্রকৃত মালিক নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ সমস্যা অবসানের দাবী জানান তারা।

পাঠকের মতামত: