কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১

উখিয়ায় স্কুল ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে ইউএনও এসিল্যান্ডের গাড়িতে হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক::

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) গাড়ীর উপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। দুর্বৃত্তদের পরিকল্পিত হামলায় স্কুল শিক্ষকসহ ৫জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

রবিবার (২ মে) উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজের খুঁটি স্থাপনের সময়ে আবু ছৈয়দ ফজলী ও মোহাম্মদ হোসাইনের নেতৃত্বে একদল উশৃঙ্খল জনতা স্কুল শিক্ষকদের উপর এ হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃকৃতরা হলো মকতুল হোছনের ছেলে ছৈয়দ আলম ফজলী, সুলতান আহমদের ছেলে মোহাম্মদ কালু।

অপরাপর হামলাকারীরা হলো বদিউল আলমের ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন, সুলতান আহমদের ছেলে নুরুল আলম, সুলতান আহমদের ছাদেক আলী, মৌলভী তৈয়বের ছেলে আব্দুল মোস্তফাসহ আরো অনেকে।

আবুল কালাম নামে একজন জানিয়েছেন, আজ সকালে ১০টার দিকে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করতে ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টরা বিদ্যালয়ে গেলে শিবির ক্যাডার মোহাম্মদ হোসাইনের নেতৃত্বে¡ স্থানীয় কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী ভবন নির্মাণ কাজে বাধাঁ প্রদান করে। খবর পেয়ে ঘন্টা খানেক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আমিমুল এহসান খান উপস্থিত হয়ে বুঝানোর চেষ্টা করেন। এতেও পরিস্থিতি শান্ত না হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা একযোগে তাদের গাড়ীতে হামলা চালিয়ে গাড়ী ভাংচুর করে। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভবন নির্মাণে বাঁধা প্রদানকারী মোহাম্মদ হোসাইন জানিয়েছেন, একটি মহল বিশাল অংকের টাকা লুটপাট করার মিশন নিয়ে মাঠে ভবন নির্মাণে নামে যুদ্ধ শুরু করেছে। এ সময় খেলার মাঠে ভবন নির্মাণে বাঁধা দিলে এলাকাবাসীর মধ্যে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দেলোয়ার (১৫), ফয়সাল (২০), হাসিনা আকতার (৩০), কবির আহমদ, মরিয়ম বেগম (৩৫) পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকীদের পরিচয় জানাতে পারেনি।

ঘটনার বিষয়ে সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মিলন কুমার বড়ুয়া বলেন, দুর্বৃত্তদের হামলায় সহকারী শিক্ষক বাবুল ও শামশুল আলম ভুলু গুরুত্ব আহত হয়েছে। মূলত: বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থী অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষ না থাকায় পাঠদান দিতে কষ্ট হয়। তাই বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গার উপর সরকারি ভবন নির্মাণ করতে গেলে এলাকার কয়েকজন বাঁধা প্রদান করে। যা ইতিপূর্বে ইউএনও, সহকারি কমিশনারের কার্যালয়ে কয়েকদফা মিটিংয়ের মাধ্যমে ভবন নির্মাণে সিদ্ধান্ত হয়। ভবনটি নির্মাণের পরও অবশিষ্ট জায়গাটি থাকবে সেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের খেলাধুলা, নামাজে জানাজা ও মাহফিল করতে সমস্যা হবে না বলে তিনি জানান।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহাম্মদ সঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মো: হাসানুজ্জামান পিপিএম, উখিয়া-টেকনাফের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাকিল আহমেদ।

পাঠকের মতামত: