কক্সবাজার, শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১

কক্সবাজারে ইয়াস’র প্রভাবে ৪৫ গ্রাম প্লাবিত, বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস’র প্রভাবে ও পূর্ণিমা জোয়ারের তাণ্ডবে কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার কুতুবদিয়া উপজেলা, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, কক্সবাজার শহরতলি, সদর উপজেলার গোমাতলী, ইসলামপুর, পেকুয়া উপজেলার মগনামা, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা এলাকায় সর্বোচ্চ পাঁচ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাসে ৪৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘর বিধ্বস্ত ও নষ্ট হয়েছে পাঁচ শতাধিক।

বিশেষ করে কুতুবদিয়া ও সেন্টমার্টিন দ্বীপে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে।

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাঁধ জোয়ারের পানির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরিনড্রাইভ সড়কে জোয়ারের পানির ধাক্কায় জিওব্যাগ ধসে হিমছড়িসহ ৪টি স্থানে ভাঙন ধরেছে। সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য বর্ধনকারী ঝাউ বাগানে ঢেউয়ের তোড়ে ভাঙন ধরে বেশকিছু গাছ উপড়ে পড়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরে জামান জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব ও পূর্ণিমা জোয়ারে কুতুবদিয়া দ্বীপের ৫টি ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

দ্বীপের বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে বাড়ি ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা বাড়িঘর জলোচ্ছ্বাসে বিধ্বস্ত হয়েছে। দ্বীপের ৮ হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

 

সেন্টমার্টিন দ্বীপের চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানিয়েছেন, জোয়ারের তাণ্ডবে দ্বীপের জেটিঘাট বিধ্বস্ত হয়েছে।

জোয়ারের পানি উপচে পড়ে দ্বীপের ৫০টি বাড়িঘর ক্ষতি হয়েছে। পূর্ণিমা জোয়ারের আঘাতে দ্বীপের চারিদিকে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের ১৫টি পর্যটন রিসোর্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

কক্সবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল জানান, কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়া সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্টসহ ১০টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। গোমাতলী, চৌফলদন্ডী ও ইসলামপুর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম মাছের ঘেরসহ প্লাবিত হয়েছে।

ঢেউয়ের তোড়ে ভাঙন ধরে বেশ কিছু ঝাউ গাছ উপড়ে পড়েছে।

 

মহেশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শরীফ বাদশা জানান, মহেশখালীর ধলঘাটা, মাতারবাড়ী, কুতুবজোম ইউনিয়নের ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানিতে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে বেশ কিছু বসতঘর ও মৎস্য ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমা জোয়ারের প্রভাবে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বিকেল থেকে কেটে গেছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমিন আল পারভেজ জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত এখনো পাওয়া যায়নি। তবে পূর্ণিমা থাকায় জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ৪৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পাঠকের মতামত: